বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের একটি গোল বাতিলের ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে মোস্তফা জিকো আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠালেও রেফারি ভিএআর-এর সাহায্যে তা বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের একজন খেলোয়াড় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর প্রটোকলের আওতায়, গোলের দিকে পরিচালিত পুরো আক্রমণপর্ব (এপিপি) পর্যালোচনা করা হয়। এই ক্ষেত্রে, মার্তিনেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ফাউল হওয়ায় পরবর্তী কাউন্টার অ্যাটাক থেকে হওয়া গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়নি। ফুটবলের আইন অনুযায়ী, আক্রমণ শুরুর সময় কোনো আইন ভঙ্গ হলে, তা গোল হওয়ার ৩০-৪০ সেকেন্ড আগেও ঘটতে পারে, তবু গোল বাতিলযোগ্য। ম্যাচের শেষ দিকে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে। সালাহ আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে হুলিয়ান আলভারেজের ট্যাকলে তিনি পড়ে যান। তবে রেফারি তাতে ফাউল না দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেন। রিপ্লে বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলভারেজ প্রথমে বল স্পর্শ করেন এবং তার গতির কারণেই সালাহর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ফুটবলের নিয়মে 'প্রথমে বল স্পর্শ করলেই ফাউল হবে না' এমন কোনো লিখিত আইন না থাকলেও, ট্যাকলটি বেপরোয়া বা অতিরিক্ত শক্তির ছিল না বলে রেফারি তা বৈধ মনে করেন। ভিএআর চালুর পর থেকে এমন সিদ্ধান্ত বহুবার দেখা গেছে। বিশ্বকাপের আগের ম্যাচে জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচেও জোনাথান তাহের গোল বাতিল হয়েছিল একই নিয়মে। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসি-ফুলহাম ম্যাচে জস কিংয়ের গোলও এপিপি নীতি অনুযায়ী বাতিল করা হয়। আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের সিদ্ধান্ত দুটি বর্তমান ভিএআর প্রটোকল এবং আইএফএবি-র নির্দেশনার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক থেকেই যায়, কারণ একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন রেফারি ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ফুটবলের এই চিরন্তন দ্বন্দ্বই খেলাটিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।