যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনার মধ্যেই মেগান মার্কলের অভিনয়ে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিবিসি জানতে পেরেছে, নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য জেন্টলমেন’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ডাচেস অব সাসেক্সের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। বিয়ের পর এটিই হতে পারে তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য অভিনয় ভূমিকা।
এই খবর এসেছে এমন সময়ে যখন হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। ডেইলি টেলিগ্রাফ ও দ্য সানের প্রথম প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে লন্ডনের বাইরে একটি বেসরকারি আবাসনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে পারেন তারা। তাদের সন্তান—সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট—সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু রাজকীয় কর্মজীবনে ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
জুলাই মাসে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানরা গ্লস্টারশায়ারের হাইগ্রোভে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। চার বছরেরও বেশি সময় পর এটি ছিল রাজার সঙ্গে নাতি-নাতনিদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। ২০২২ সালের পর এটি ছিল দম্পতির যুক্তরাজ্যে একত্রে প্রথম সফরও। দীর্ঘদিন পর এই পুনর্মিলনের মাধ্যমে পরিবারিক সম্পর্কের নতুন মোড় নিলেও, ওয়েলসের যুবরাজের মনে এখনও ক্ষোভ রয়ে গেছে বলে জানা গেছে; আঘাতের অনুভূতি কাটেনি।
অভিনয়ের দিকে ফিরে এলে, গাই রিচি নির্মিত ‘দ্য জেন্টলমেন’ সিরিজটি একটি কমেডি, যেখানে একজন ডিউক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সিরিজটির বেশিরভাগ অংশ কটসওল্ডস এলাকায় চিত্রায়িত হয়েছে—যে এলাকাতেই হ্যারি ও মেগানের নতুন বাড়ি গড়ে তোলার গুঞ্জন রয়েছে। সিরিজে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন থিও জেমস। পূর্ববর্তী পর্বে হিউ বোনভিল ও ভিনি জোন্স অভিনয় করেছেন। মেগানকে কী ধরনের ভূমিকা দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
মেগান পূর্বে মার্কিন আইনি ধারাবাহিক ‘স্যুটস’-এ র্যাচেল জেন চরিত্রে সাত মৌসুম অভিনয় করেছেন; ২০১৮ সালে তাঁর শেষ পর্ব প্রচারিত হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে বিবাহের পর তিনি অভিনয়জীবন স্থগিত রাখেন। সে সময় তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, অভিনয় ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কোনো ত্যাগ হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি ছিল “একটি নতুন অধ্যায়”। সম্প্রতি প্রায় এক দশক পর ‘ক্লোজ পার্সোনাল ফ্রেন্ডস’ ছবিতে নিজের চরিত্রে একটি ছোট ভূমিকায় দেখা গেছে তাঁকে, যেখানে লিলি কলিন্স ও ব্রি লারসনও রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জীবনধারা ও রান্নার ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’-এর বৈশ্বিক বিস্তারও বাড়ানোর আশা করছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্তের কারণে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২০ সালে রাজকীয় কর্মজীবন ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান কমানো হয়েছিল এবং সেখানে তারা নিজেদের খরচে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ স্বাধীন সংস্থা র্যাভেক—যা রাজকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা তদারকি করে—এখন নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে। পূর্বের ব্যবস্থাগুলো এই ধারণার ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছিল যে সাসেক্স দম্পতি যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন না। এই কারণে আকস্মিক এই ঘোষণার পর সরকারি অর্থায়নে নিরাপত্তা সুরক্ষার মাত্রা নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
হ্যারি ও মেগান কিছু শোবিজনেস সাফল্য পেলেও হলিউডে তাদের রাজত্ব স্বল্পস্থায়ী প্রমাণিত হয়েছে। বিবিসির জ্যেষ্ঠ রাজপরিবার সংবাদদাতা ড্যানিয়েলা রেলফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচেস অব সাসেক্স আবার পর্দায় ফিরতে পারেন। ২০২০ সালের মার্চ থেকে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এখন তাদের এই আকস্মিক পরিকল্পনার পরিণতিতে সরকারি অর্থায়নে সুরক্ষার অধিকার নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।




