দেশের শীর্ষস্থানীয় মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক অবশেষে ডিজিটাল লেনদেন সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে সনদ প্রদান করে। এর মধ্য দিয়ে ‘মুক্ত পে’ নামে নতুন এই ডিজিটাল লেনদেন সেবা বাজারে আনার পথে আর কোনো বাধা রইল না। প্রতিষ্ঠানটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, ‘মুক্ত পে’র মাধ্যমে গ্রাহকরা টাকা স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন সার্ভিস এবং সরকারি বিল নিষ্পত্তি, বেতন-বোনাস বিতরণসহ অনুমোদিত অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পাবেন। এই সেবা চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের ক্রমবর্ধমান বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল অপারেটরটি।
তবে শুধু পিএসপি সেবাতেই থেমে থাকতে চাইছে না বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন। টেলিকমিউনিকেশন খাতের এই বৈশ্বিক জায়ান্টটি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও পা রাখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি একটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদনও জমা দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রাহকদের কাছে সহজ, নিরাপদ এবং সহজলভ্য ডিজিটাল লেনদেনের অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়াই ‘মুক্ত পে’র মূল উদ্দেশ্য। দেশের আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা, নগদবিহীন লেনদেনের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতি গড়ার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মোবাইল সংযোগ সেবাকে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যে সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বাংলালিংক অর্জন করেছে, সেই পুঁজি কাজে লাগিয়েই ডিজিটাল আর্থিক সেবার নতুন জায়গায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় তারা। ‘মুক্ত পে’র মাধ্যমে আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করারও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ছোট উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মূলধারায় যুক্ত করতেই এই সেবাকে কাজে লাগানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলালিংক বলছে, লাইসেন্স অর্জন কোম্পানি ও তার মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের বৃহত্তর কৌশলেরই একটি অংশ। এর ফলে একটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি থেকে ডিজিটাল অপারেটরে রূপান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হলো। সংযোগ সেবার বাইরে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এখন কার্যক্রম সম্প্রসারিত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ প্রসঙ্গে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এমন একটি ডিজিটাল কাঠামো প্রয়োজন যার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। ‘মুক্ত পে’ সেই উদ্দেশ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




