দীর্ঘ প্রায় দশ মাসের প্রতিযোগিতার পর ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিজয়ী হিসেবে মুকুট পেলেন ওডিশার তরুণী কণ্ঠশিল্পী জ্যোতির্ময়ী নায়ক। বয়স ২৪ বছর। ট্রফির সঙ্গেই তিনি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের তনিষ্ক শুক্লা হয়েছেন প্রথম রানারআপ। গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারক হিসেবে ছিলেন শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহ। এবারের আসরের মূল ভাবনা ছিল ‘ইয়াদোঁ কি প্লেলিস্ট’। দর্শকদের বিপুল সাড়ার কারণে অনুষ্ঠানটির মেয়াদ দু’বার বাড়ানো হয়, যার ফলে প্রতিযোগিতাটি প্রায় দশ মাস ধরে চলে।
বিজয়ী হওয়ার পর জ্যোতির্ময়ী জানান, প্রায় এক বছরের এই পথচলা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে পা রেখে প্রতিযোগিতায় নাম লেখান তিনি। শুরু থেকেই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভালো গান গেয়ে বিচারকদের প্রশংসা কুড়ানো। পুরস্কারের অর্থ নিয়ে তিনি আগে কখনো ভাবেননি। এখন সেটি কীভাবে খরচ করবেন, তা নিয়ে ভাববেন।
প্রতিযোগিতার স্মৃতি নিয়ে জ্যোতির্ময়ী বলেন, কিংবদন্তি শিল্পীদের গান পরিবেশনের সুযোগ পাওয়া ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে আনন্দের। তবে এলিমিনেশনের সময় নিচের সারিতে চলে যাওয়ার মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। দর্শকদের ভোট ও নিজের অধ্যবসায় তাঁকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি দুর্বলতা ছিল জ্যোতির্ময়ীর। ভক্তিমূলক ও ওড়িয়া আঞ্চলিক গানের মাধ্যমে তাঁর সংগীতচর্চা শুরু। প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ক্যানসার রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দিতে সংগীতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি। জ্যোতির্ময়ীর মতে, সেই রোগীদের আশীর্বাদই তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, গান শুনে রোগীরা খুশি হতেন এবং তাঁকে একদিন ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে দেখতে চাওয়ার কথা বলতেন। তাঁদের সেই শুভেচ্ছাই তাঁর পথচলার বড় শক্তি ছিল।
জ্যোতির্ময়ী জানান, তিনি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ইতিহাসে প্রথম ওড়িয়া নারী যিনি শুধু অংশগ্রহণই করেননি, বরং শিরোপাও জিতেছেন। এ জন্য তিনি তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের পূর্ণ সমর্থনই তাঁকে নিজের স্বপ্ন পূরণে সাহস জুগিয়েছে।
বর্তমানে জ্যোতির্ময়ী বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তনিষ্ক শুক্লা, অংশিকা চোংকর, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু ও সুহাইল সুফি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল ও উর্মিলা মাতন্ডকর।
বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিচারক শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, পুরো মৌসুমে প্রতিযোগীদের বিকাশ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে মঞ্চকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, ট্রফি যে-ই জিতুক না কেন, এই প্রতিযোগিতাই তাঁদের সংগীতজীবনের নতুন সূচনা।




