মিক্সড মার্শাল আর্টের (এমএমএ) কিংবদন্তি অ্যালিস্টার ওভারিম মনে করেন, ইউএফসির ‘হল অব ফেমে’ তার নাম না ওঠার পেছনে একমাত্র কারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ডানা হোয়াইটের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ। ৪৭টি জয় ও ১৯টি পরাজয়ে ভরা ক্যারিয়ারে স্ট্রাইকোর্স, ড্রিম এবং কে-১ সহ একাধিক শিরোপা জয়ী এই তারকা এক দশকেরও বেশি সময় ইউএফসিতে কাটিয়েছেন। কিন্তু তার চেয়ে কম অর্জন থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড সেরোন, ওয়ান্ডারলেই সিলভা ও উরিজা ফেবারের মতো ফাইটাররা যখন এই সম্মাননা পাচ্ছেন, তখন ওভারিম কেন বাদ, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা।

ওভারিম নিজেই এই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে একটি সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আমার ধারণা, ইউএফসি হল অব ফেম পুরোটাই নির্ভর করে আপনি ডানা হোয়াইটের পছন্দের তালিকায় আছেন কি না। সে যদি আপনাকে পছন্দ করে, তাহলে আপনি সেখানে জায়গা পাবেন। আর যদি না পছন্দ করে, তাহলে পাবেন না। আমার ক্ষেত্রে যেহেতু আমি সেখানে নেই, তাই ধরে নিচ্ছি সে আমাকে পছন্দ করে না।” তিনি আরও গভীরে গিয়ে বলেন, “ডানা অবশ্যই তার কাজ জানে, কিন্তু ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত চলে আসে ইগোতে।”

এই অপছন্দের সূত্রপাত তিনি ২০১১ সালে ইউএফসি-তে যোগ দেওয়ার ঘটনায় খুঁজে পান। হোয়াইটের সঙ্গে তার ম্যানেজমেন্টের আলোচনা সেবার ভেস্তে যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন সহ-মালিক লরেঞ্জো ফারতিতার হস্তক্ষেপে চুক্তি সম্পন্ন হয়। ওভারিম অনুমান করেন, “সম্ভবত বিষয়টি তাকে ভিন্নভাবে নাড়া দিয়েছিল। মানুষের মনের ভেতরে কী আছে, তা আমি বলতে পারি না।”

ইউএফসি-তে তার অধ্যায়ের সমাপ্তিও ছিল বেশ নির্মম। প্রায় দশ বছরের সম্পর্ক শেষ হয় দ্রুতই। তিনি স্মরণ করেন, একটি পরাজয়ের পর ৫০ শতাংশ বেতন কাটছাঁটের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তাকে। ওভারিম সে প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপরই আলেক্সান্ডার ভলকভের কাছে হারের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওভারিম বলেন, “আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। লোকটি কখনোই, আমরা কোনো কথা বলি না। যা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে, কারণ আমি দলের অন্যতম বেশি বেতনভোগী অ্যাথলেট ছিলাম।”

যদিও ওভারিমের রেকর্ডে ১৯টি পরাজয় রয়েছে, কিন্তু ৪৭টি জয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ব্রক লেসনার, ভিটর বেলফোর্ট, ফ্যাব্রিশিও ভার্দাম, ফ্রাঙ্ক মির ও জুনিয়র দোস সান্তোসের মতো ফাইটাররা আছেন। এদের মধ্যেবেলফোর্ট ইতিমধ্যে ‘হল অব ফেম’-এ আছেন, এবং অন্যরাও ভবিষ্যতে জায়গা পেতে পারেন। এই বাস্তবতায় বাদ পড়ার বিষয়ে ওভারিম দার্শনিক। তার মন্তব্য, “শুনুন, আমি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। আর যারা আমাকে পছন্দ করে না, তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে চলতে হয়েছে। আমি এতে বিচলিত নই। সবাই সবার বন্ধু হতে পারে না, এভাবেই আমি জীবন পার করি। শেষ পর্যন্ত যদি কেউ আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, তার মাশুল তাকেই দিতে হয়।”

তবে সম্মাননা পাওয়ার ইচ্ছের কথাও এক প্রকার স্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, “অবশ্যই সবাই চাইবে ‘হল অব অবার’ হতে। আমি ১০ বছর তাদের সাথে ছিলাম। কিন্তু যদি এখনও না হয়, তবে সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।” নিজের অনুভূতি প্রসঙ্গে শেষ মন্তব্যটি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, “আমি সারা জীবনে ‘হল অব ফেম’ নিয়ে এত বেশি কথা কখনোই বলিনি।”