রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক মডেল ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে রাশিয়ার অর্থনীতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও এখন তা ‘থমকে গেছে’ এবং পুতিনের ব্যয় কাঠামো দেশটিকে ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিপদের অতল গহ্বরে’ ঠেলে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে প্রথমে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৪ লাখ আহত হয়েছে। এই হার প্রতি মাসে রুশ সেনা সংগ্রহের চেয়ে বেশি, অথচ বিনিময়ে সামরিক অগ্রগতি নগণ্য। ২০২৬ সালে রুশ বাহিনী প্রতিদিন মাত্র ৫০ থেকে ৯০ মিটার অগ্রসর হতে পারছে, যা বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ধীর গতির যুদ্ধ অগ্রগতির মধ্যে একটি। অন্যদিকে, সম্প্রতি কিছু অঞ্চলে রুশ ভূখণ্ড হ্রাসও পেয়েছে। যুদ্ধ অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে রুশ সেনাদের অগ্রগতির গতি কমে আসছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, রাশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি মূলত সামরিক খাতে রাজস্ব ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সরকারি নগদ ইনজেকশন জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি ছিল। তবে এই স্ফীতি এখন ম্লান হয়ে আসছে। পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, কারণ বহু দেশ বিকল্প সরবরাহকারীতে স্যুইচ করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শক্তি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও রুশ তেল-গ্যাস আয় হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। বেলজিয়ামের থিঙ্ক ট্যাংক ব্রুয়েগেল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রাশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৬ শতাংশে, যেখানে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা ৪ শতাংশের বেশি ছিল। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ফেডারেল বাজেটে তেল ও গ্যাসের রাজস্বের অংশ ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই ঘাটতি পূরণে রাশিয়া সম্ভবত কর বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সম্প্রতি মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ২০ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা রুশ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তবে অর্থনৈতিক মেঘ ও যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যর্থতা সত্ত্বেও রুশ বাহিনী সম্প্রতি কিয়েভে ১১ ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।
সিএসআইএসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে নিষেধাজ্ঞার ফাঁক বন্ধ করতে এবং রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জ্বালানি বিক্রি রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকরা বলেছেন, সঠিক চাপ প্রয়োগ না করলে পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, যদিও তা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
