সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র লামিনে ইয়ামালের ১৯তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে তার জীবনসংগ্রামের নানা দিক নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে ক্যারিয়ারের পেছনের বাস্তব চিত্র। মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান ইয়ামালের শৈশব কেটেছে স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায়, যা উত্তর আফ্রিকার অভিবাসী কর্মীদের বসবাসের জন্য পরিচিত। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সীমিত সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা তার পরিবার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে চরম আবাসন সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এক সময়ে বন্ধুদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে, আবার কখনো তরুণ বাবা-মায়েদের জন্য নির্ধারিত একটি আবাসনে থাকতে হয়েছে—যেখানে একই কক্ষে ঘুমানোর জায়গা ও রান্নাঘর ছিল। ইয়ামালের জীবনে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তার দাদী। তিনি মরক্কো থেকে বাসে লুকিয়ে স্পেনে পাড়ি জমান এবং টানা তিন শিফটে কাজ করে এত অর্থ জোগাড় করেন, যাতে নিজের ছেলে ও মেয়েকে স্পেনে নিয়ে আসতে পারেন। সেই আত্মত্যাগই পরিবারের নতুন জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারকে কখনো কঠিন মনে করেননি ইয়ামাল। তার মতে, প্রকৃত সংগ্রাম ছিল বাবা-মায়ের। মা মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে জন্ম দেন; বাবা রাস্তা পরিষ্কার ও ময়লা সংগ্রহের মতো কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। লামিনের ভাষ্যে, এসবই ছিল সত্যিকারের চাপ, তার ফুটবল জীবন নয়। শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ইয়ামালের মা। ম্যাচ শেষেও তিনি ছেলেকে পড়তে বসতে বলতেন এবং পড়াশোনা না করলে ফুটবল খেলতে দেবেন না বলে সতর্ক করেছিলেন। এই নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আবেগঘন তর্কও হয়েছে। তবে মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ইউরো ২০২৪ জয়ের উদযাপনের মাঝেও ইয়ামালকে স্কুলের বাড়ির কাজ শেষ করতে হয়েছিল। অল্প বয়সে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়ে যাওয়ায় ইয়ামাল এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। শপিং মলে গেলে ভক্ত ও ক্যামেরার ভিড়ে ঘিরে ফেলা হয় তাকে, যা একজন কিশোরের জন্য সহজ নয়। অন্যদিকে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হওয়ায় ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সারা বছরই তাকে খেলতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ তার তরুণ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।