রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগস্ট-জুলাই এই ১২ মাসের পরিসংখ্যানে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে। গত মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ৪৭২ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪১ কোটি ডলার এবং মে মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অপরদিকে, গত ফেব্রুয়ারি (৩৫০ কোটি ডলার) ও মার্চ (৩৪৮ কোটি ডলার) মাস ছিল এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম রপ্তানি আয়ের মাস। যদিও মাসিক রপ্তানি আয় ১২ মাসের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে, তবুও বাৎসরিক ভিত্তিতে গত জুলাইয়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭৭ কোটি ডলার, যা বর্তমান জুলাইয়ে ৪৭২ কোটি ডলারে নেমে আসায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিগত এক বছরের অধিকাংশ সময়জুড়েই আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিবন্ধকতা রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইপিবির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় সামগ্রিক রপ্তানির এ মন্দাভাবনার পেছনে মূল কারণ ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি হ্রাস। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ডলার, যেখানে গত বছরের একই মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯৬ কোটি ডলার।
একইভাবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানিও সংকুচিত হয়েছে। গতবছরের জুলাইয়ে যেখানে ৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে গত মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২৩ লাখ ডলারে। অবশ্য এই নেতিবাচক চিত্রের মধ্যেও বেশ কয়েকটি খাত ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে গত জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ, যা শীর্ষ পাঁচ খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই খাতের রপ্তানি আয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। হোমেটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে আয় ১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার ছাড়িয়ে ১৩ কোটি ডলারের কোটা অতিক্রম করেছে। মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই অবশ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে।