ফরচুন ডটকমের এক বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্যে উদ্যোক্তা ও নেতৃত্ব বিষয়ক পর্যবেক্ষক মাইকেল সোনেনফেল্ড একটি গভীর প্রশ্ন তুলেছেন: একজন নেতার কখন সরে দাঁড়ানো উচিত? তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়াই ইতিহাসের কিছু প্রশংসিত ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। গিন্সবার্গ থেকে শুরু করে বাইডেন—যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অনেকেই ঠিক সময়ে পদত্যাগ না করে বিপরীত ফল এনেছেন। সোনেনফেল্ড নিজে টাইগার ২১-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে এর নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ১৮ মাস আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নতুন মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং এখন নিজের ফ্যামিলি অফিস পরিচালনায় বেশি সময় দেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেখেছেন, অসাধারণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অনেক প্রতিষ্ঠাতাই অতিরিক্ত সময় ধরে থাকার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেন।
গিন্সবার্গের প্রসঙ্গে লেখক স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি সারাজীবন সমতার আইনশাস্ত্র গড়ে তুলেছিলেন। ২০১৩-১৪ সালের দিকে, গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার পর তাঁর কাছে সুযোগ ছিল যে একজন সমমনা উত্তরসূরি নিয়োগের জন্য সময়মতো অবসর নেওয়ার। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, ধরে নেন যে তাঁর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং রাষ্ট্রপতি পদ sympathetic হাতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত তিনি ভুল প্রমাণিত হন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ করা অ্যামি কনি ব্যারেট তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি রো বনাম ওয়েড মামলার রায় বাতিলের পক্ষে ভোট দেন—যে সিদ্ধান্তটি গিন্সবার্গের জীবন-লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর পাশাপাশি, এই নিয়োগ একটি সুপ্রিম কোর্ট গঠনে সাহায্য করে যা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও সুরক্ষা বাড়িয়েছে। সোনেনফেল্ডের মতে, শুধু একটি রায় নয়, বরং এই শক্তিগুলোর মিথস্ক্রিয়াই বর্তমান সময়কে বিশেষ বিপজ্জনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে, জো বাইডেনের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট। তিনি নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেতু হিসেবে বর্ণনা করলেও, প্রথম মেয়াদের পর অবসরের পরিবর্তে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ান। যখন তাঁর প্রার্থিতা ভেঙে পড়ে, তখন কার্যকর বিকল্প গড়ে তোলার সময় হাতে থাকে না। সোনেনফেল্ড বলছেন, গিন্সবার্গ একটি অজানা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভুল করেছিলেন; বাইডেন একটি দৃশ্যমান বর্তমানের প্রতি সাড়া দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীটি সমর্থন করা কঠিন। তবে শুধু বাইডেন নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও দায়ী, যাঁরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানতেন কিন্তু সত্য গোপন করে রেখেছিলেন।
লেখক এই ঘটনাগুলোর মূলে দেখেন 'অপরিহার্যতার ভ্রম'—এই বিশ্বাস যে প্রতিষ্ঠানটির জন্য নেতার প্রয়োজন এবং তাঁর চলে যাওয়া পরিত্যাগের শামিল। এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে না, বরং কর্তব্যের পোশাক পরে। ইতিহাসে উড্রো উইলসন ও চার্চিলের উদাহরণও একই প্যাটার্ন দেখায়। উইলসন ১৯১৯ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরও পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন এবং তাঁর স্ত্রী ও চিকিৎসক তার অবস্থা গোপন রাখেন, যা লীগ অফ নেশনস-এ আমেরিকার যোগদান ব্যর্থ করে দেয়। চার্চিলের ১৯৫১ সালের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও একই ঘটনা ঘটে।
সোনেনফেল্ডের মতে, একজন সত্যিকারের নেতার উচিত সেই শর্তগুলো আগেই নির্ধারণ করা যার ভিত্তিতে তিনি চলে যাবেন এবং যথেষ্ট আগে প্রস্থানের ব্যবস্থা করা যাতে উত্তরসূরি প্রস্তুত হওয়ার সময় পায়। যিনি প্রতিটি ইঙ্গিতকে হুমকি হিসেবে দেখেন, তিনি নিজেকে এবং কারণকে এক করে ফেলেছেন। তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের উদাহরণ দেন, যিনি বিপ্লবী যুদ্ধ জয়ের পর ১৭৮৩ সালে কংগ্রেসের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেন এবং ১৭৯৬ সালে তৃতীয় মেয়াদ প্রত্যাখ্যান করেন—নজির স্থাপন করে যে পদটি ব্যক্তির চেয়ে বড়। একইভাবে নেলসন ম্যান্ডেলা এক মেয়াদ শেষ করে ১৯৯৯ সালে সরে দাঁড়ান, যা বার্তা দেয় যে আন্দোলন ব্যক্তির চেয়ে বড়।
লেখক শেষ পর্যন্ত বলেন, সংস্কৃতি অধ্যবসায়কে পূজা করে এবং সরে দাঁড়ানোকে ছেড়ে দেওয়া হিসেবে দেখে। অ্যানি ডিউকের 'কুইট' বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কখন ফোল্ড করতে হবে তা জানা গ্রিটের বিপরীত নয়, বরং এর প্রয়োজনীয় অংশ। সময়মতো সরে দাঁড়ানো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির বিরল রূপ, যা আমরা সম্মান দিতে কমই রাজি। এই মন্তব্যটি ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব, যা ফরচুনের মতামতকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

