সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শনিবার বিকেলে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে’ আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সরকার যদি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকর না করে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি নির্বাচিতভাবে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনার মতো জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার পরিণতি ভোগ করতে চান?’
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অথবা বর্তমান কমিশনারদের পদত্যাগ করা উচিত।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা দেশের মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয়।’ তিনি জানান, ঐকমত্য কমিশনে এই বিতর্কের অবসান হয়েছিল, যেখানে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোটে রাজি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। তাদের ৩১ দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা ছিল, কিন্তু এখন তারা শুধু সংশোধনই চেনে।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়েছে। বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু সরকার সংস্কার না করায় সেই সহযোগিতা মিলছে না।
ভারতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ও ১৪০০ মানুষের আত্মত্যাগ যদি বিএনপি ভুলে যায়, তাহলে তারেক রহমানের সরকারকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।




