ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধের ব্যাপক চাহিদার জেরে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলি লিলি তৃতীয় প্রান্তিকের প্রত্যাশা সহজেই ছাড়িয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি ২০২৬ সালের জন্য তাদের সার্বিক রাজস্ব নির্দেশিকাও বাড়িয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিকস জানান, এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাদের জনপ্রিয় ওষুধ জেপবাউন্ড ও মাউনজারো।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে মোট আয় ৮৫ বিলিয়ন থেকে ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে থাকবে বলে এখন আশা করছে। এর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে এই আয় ৮২ বিলিয়ন থেকে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আভাস দেওয়া হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, সরবরাহ ঘাটতি কিছুটা মিটে যাওয়ার ফলে চাহিদার গতি হয়তো কিছুটা মন্থর হতে পারে, কিন্তু লিলির সাম্প্রতিক বিক্রির তথ্য সেই শঙ্কাকে সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত প্রান্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেপবাউন্ডের বিক্রি আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছেছে, পাশাপাশি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত মাউনজারোর চাহিদাও অটুট রয়েছে। এই দুই ওষুধই একই রকম সক্রিয় উপাদান ব্যবহার করে, যা বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তাদের বিভিন্ন কারখানায় ব্যাপক বিনিয়োগের ইতিবাচক ফলাফল এখন দৃশ্যমান।
এলি লিলির এই ইতিবাচক আর্থিক ফলাফল এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন বিশ্ববাজারে ওজন কমানোর ওষুধের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং একাধিক ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট এই খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব পূর্বাভাস বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির প্রতি নতুন করে আস্থা তৈরি করবে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের প্রতিযোগিতা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। বুধবারের এই ঘোষণার পর ওয়াল স্ট্রিটে লিলির শেয়ারদরে প্রভাব লক্ষণীয় ছিল।



