বিনিয়োগ জগতের কিংবদন্তি ওয়ারেন বাফেট অবশেষে প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের কৌশল ছিল প্রযুক্তি কোম্পানি এড়িয়ে চলা, কারণ তিনি সেগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারতেন না। তবে সম্প্রতি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের আলফাবেটে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পেছনে তাঁরই হাত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে আসন্ন বার্কশায়ার সিইও গ্রেগ অ্যাবেল নন, বরং তিনিই এই বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বাফেট বলেন, ‘গুগল এবং তার সব প্রতিযোগী এখন শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এটি আসল অর্থের খেলা। তারা আগে কম্পিউটার সফটওয়্যার নিয়ে যে খেলা খেলত, তা আর খেলছে না।’ তিনি স্বীকার করেন যে বছরখানেক আগেও তিনি গুগলের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছিলেন। তবে গুগল ও অন্যান্য কোম্পানি যখন রেলওয়ে বা ইউটিলিটির মতো বিপুল মূলধন ব্যয় শুরু করে—ডেটা সেন্টার ও চিপ তৈরিতে শত শত বিলিয়ন ডলার ঢালতে থাকে—তখন তাঁর আগ্রহ জন্মায়। এই ধরনের মূলধন-নিবিড় নির্মাণকাজ বাফেটের কাছে পরিচিত, কারণ তিনি দশকের পর দশক ধরে এমন ব্যবসার মালিক।
তবে বাফেট এআই ব্যয়ের প্রতিযোগিতাকে বিজয়ের চেয়ে ফাঁদের মতো দেখছেন। তিনি বলেন, ‘তারা এখন অনেক ক্ষেত্রেই এমন একটি খেলা খেলছে যা তারা আসলে খেলতে চায় না।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি আইবিএমের ঐতিহাসিক রাজস্ব ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, আইবিএম চাইত যে তারা ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০-এর দশকের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।
বাফেটের মন্তব্যের পরই আলফাবেটের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। বুধবার এই উত্থানে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের মোট সম্পত্তি ফোর্বসের মতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়—যা দ্বিতীয়বারের মতো এই মাইলফলক স্পর্শ করল। বার্কশায়ার ২০২৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আলফাবেটে বিনিয়োগ শুরু করে এবং চলতি বছরে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার যোগ করে এখন মোট ৩১ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব ধারণ করছে। বাফেট জানান, এটি বার্কশায়ারের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগ।
আলফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই আগামী দিনে এআই খাতে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে গুগলের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আয় বিবরণীতে পিচাই বলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত নিরলস উদ্ভাবনী ছন্দে আছি এবং ২০২৬ সালজুড়ে এই গতি বজায় রাখতে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ তবে বাফেটের মতে, গুগলের মতো কোম্পানি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাধ্য হয়ে এই ব্যয় করছে, এবং এর সফলতা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
বার্কশায়ারের এই বিনিয়োগ ও বাফেটের মন্তব্য প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, ‘গুগল সম্ভবত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ওয়াল স্ট্রিট পণ্যের চেয়ে বেশি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।’ এটি একটি বিরল আস্থার ভোট, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এআই ব্যয়ের ধারা এখনও অনিশ্চিত।

