দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ একটি নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে স্টকিং বা অনুসরণের শিকার ব্যক্তিরা সরাসরি তাদের হয়রানিকারীর অবস্থান সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। কর্মকর্তারা এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটিকে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করছেন।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন স্টকিং শিকার ব্যক্তি তার অনুসরণকারীর গতিবিধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবেন। এর ফলে তারা সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে চলতে এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে, এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে স্টকিং মোকাবিলায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে ধারণা করা হলেও, বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
কিছু বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন যে, এ ধরনের একটি অ্যাপ হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, কারণ ক্রমাগত অনুসরণকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মানসিক চাপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা বা অপব্যবহারের ঝুঁকিও তারা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মনে করছে এটি অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
এই অ্যাপ্লিকেশনটির কারিগরি দিক এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে এটি নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে চালু করা হবে এবং প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্টকিং সংক্রান্ত ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন একটি সমাধান আনার তাগিদ অনুভব করছে সরকার।




