সম্প্রতি ফেডারেল রিজার্ভের তথাকথিত স্বাধীনতা নিয়ে একটি চরম সমালোচনামূলক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই বক্তব্যে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার পুরো ধারণাটিকে সম্পূর্ণ অলীক ও গঠনহীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বক্তব্যটিতে দাবি করা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত পণ্ডিত ও অর্থনীতিবিদদের উচিত ফেডের স্বাধীনতা অসম্ভব বলে ভান করা বন্ধ করা। বক্তার ভাষ্যমতে, পণ্ডিত মহল যদি সত্যিকার অর্থেই ফেডের স্বাধীনতার বিরোধী হতেন, তাহলে তারা কখনোই এই স্বাধীনতাকে অসম্ভব বলে আখ্যা দিতেন না। বাস্তবে তাদের অবস্থান এমন যে তারা ফেডের স্বাধীনতা চান না এবং একটি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের কাছে বেশি কাম্য। কিন্তু প্রকাশ্যে তারা একে অসম্ভব বলে প্রচার করে নিজেদের অবস্থান অস্পষ্ট রাখেন। বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, পণ্ডিতদের এই বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে গভীর দ্বন্দ্ব। তারা ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে যতই প্রশ্ন তুলুন না কেন, তাদের নীতি ও প্রস্তাবনা পরোক্ষভাবে সেই স্বাধীনতাকেই সমর্থন করে। এই দ্বিচারিতা ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ককে আরও জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে। ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মুদ্রানীতি নির্ধারণ করতে পারবে। কিন্তু ওই বক্তব্যে বলা হয়েছে, পণ্ডিতরা এই স্বাধীনতার অসম্ভবতার কথা বলে আসলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান। তাদের ভান বাদ দিয়ে সত্যিকার অবস্থান তুলে ধরা দরকার। বক্তব্যে পণ্ডিতদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলা হয়, ফেডের স্বাধীনতা অসম্ভব বলে ভান করা বন্ধ করুন, কেননা আপনি নিজেই তা চান না। বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেডের স্বাধীনতা একটি কল্পনা মাত্র; বাস্তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময়ই বিভিন্ন শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। শিক্ষিত মহল এই বাস্তবতা এড়িয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করেছে যে ফেড সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা এই ভ্রান্তি ধরে রেখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বক্তার দাবি, ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে পণ্ডিত মহল যে অসম্ভবতার গল্প তৈরি করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং তারা নিজেরাই এমন একটি ব্যবস্থা চান যেখানে ফেড রাজনৈতিক অথবা বাজারভিত্তিক নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। তাই তাদের উচিত প্রকাশ্যে এই স্বাধীনতা নিয়ে দ্বিমত না পোষণ করে বরং বাস্তব অবস্থান ব্যাখ্যা করা। মন্তব্যকারীর মতে, ফেডের স্বাধীনতা একটি ‘উদ্ভট কল্পনা’মাত্র, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, পণ্ডিতরা ফেডের স্বাধীনতাকে যতটা অসম্ভব বলছেন, বাস্তবে তারা এর বিপরীত যা চান, তাই অসম্ভব নয় বরং সেটাই স্বাভাবিক। বক্তব্যটি ফেডের স্বাধীনতা সংক্রান্ত দীর্ঘকালীন বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যদিও এটি একটি ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। বক্তার নাম ও পরিচয় অপ্রকাশিত থাকায় এর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে বক্তব্যটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা ও স্বাধীনতার স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফেডের স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণের এই বিতর্ক বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বক্তার বক্তব্যে স্পষ্ট, পণ্ডিতদের এই ভান পরিহার করে আরও স্বচ্ছ আর্থিক নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখা উচিত। উল্লেখ্য, ফেডের স্বাধীনতা ইস্যুটি মার্কিন অর্থনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়। এই বক্তব্য সেই সংবেদনশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ফেডের স্বাধীনতা ধারণাকে ‘অলীক’ আখ্যা দিয়ে পণ্ডিতদের ভান বন্ধের আহ্বান
একটি বক্তব্যে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতাকে ভিত্তিহীন দাবি করে পণ্ডিত শ্রেণীর বিরোধী ভান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই বক্তব্যে শিক্ষিত মহল ফেডের স্বাধীনতা অসম্ভব বলে যে প্রচার করে তা আসলে দ্বিচারিতা, কারণ তারা বাস্তবে স্বাধীনতা চান না বলেও মন্তব্য করা হয়।

