বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এই পুনর্গঠনের যাত্রায় পোশাকশিল্প অপরিহার্য সঙ্গীর ভূমিকা পালন করবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাপারেল জেনারেল ম্যানেজার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএজিএমএ) বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে পোশাকশিল্প। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এই শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল। তাঁর হাত ধরেই শুরু হওয়া এই খাতটি এখন দেশের অর্থনীতির অন্যতম বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। তবে বিগত সময়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় সম্পদ পাচারসহ নানা কারণে অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

একটি দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া কঠিন কাজ হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, পোশাকশিল্পে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির উদ্যোগ এই খাতের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকার সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, উৎপাদন ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পোশাকশিল্পের বিভিন্ন সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট এবং উচ্চ সুদের হার উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।