জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তুলতে তার সৃষ্টিকর্মের প্রসার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। রোববার জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিল্পী সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই মতবিনিময়ে বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাস, ট্রেন, বিমানসহ নানা জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম নিয়মিত প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, এতে নজরুলের দর্শন ও আদর্শ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি বিদেশে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখেন তাঁরা। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে নজরুলচর্চা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তোলা হয়। শুধু গান বা কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যন্ত্রসংগীত, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নজরুলের শুদ্ধ বাণী ও সুরের সঙ্গে পরিচিত করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বক্তব্যে মাদক, মৌলবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ভূমিকা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে লালন, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালিসহ বাংলা সংস্কৃতির ধারার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা ও লেখা আরও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি কীভাবে আরও বিস্তৃত পরিসরে, সবার অংশগ্রহণে এবং জনমুখীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্যই এই মতবিনিময়ের আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

বক্তারা নজরুলের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও গবেষণা জোরদার, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের বিস্তার, জনসমাগমস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা এবং ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে একটি থিম সং তৈরির প্রস্তাব দেন। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পীদেরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনায় আরও অংশ নেন লুবনা মারিয়াম, ফেরদৌস আরা, খায়রুল আনাম শাকিল, কল্পনা আনাম, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, ফাতেমা তুজ জোহরা, অধ্যাপক নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সুজিত মোস্তফা, সীমা ইসলাম, এ এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ, প্রিয়াংকা গোপ প্রমুখ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রায় চার শ কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও নজরুল গবেষক অংশ নেন।