ইউক্রেনজুড়ে রুশ বাহিনীর চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। রাজধানী কিইভসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহস্পতিবার ভোররাতে এসব হামলা চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পরপরই এই আক্রমণ শুরু হয় বলে জানা গেছে।

কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, হামলার পর কয়েকটি অনাবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানান, কিইভে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তিনি। দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিইভে একজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে জেলেনস্কির নিজ শহর মধ্যঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ এলাকায়। সেখানকার প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেকসান্দর ভিলকুল জানান, ইসকান্দের-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। রুশ বাহিনী ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করে, যা সরাসরি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে এবং পুরো বাড়িটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও লোক চাপা পড়ে থাকতে পারে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্রিভি রিহতে পাঁচ ও বারো বছর বয়সী দুই শিশু কন্যাসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছে।

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৬ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া দনিপ্রোপেতরোভস্ক ও পোলতাভা অঞ্চলে দুটি শিশুসহ আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিইভ, লভিভ ও দনিপ্রোপেতরোভস্কসহ ইউক্রেনজুড়ে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনের তিনটি কার্গো জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

এদিকে, নেটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, রুশ আকাশ হামলা থেকে তাদের আকাশসীমা রক্ষার জন্য যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করা হয়েছিল। পোল্যান্ডের পুলিশ লুবলিন অঞ্চলের বিলগোরাজ কাউন্টি থেকে একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে একটি মাঠে বড় গর্ত ও অজ্ঞাত এক বস্তুর ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায় তারা।

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। জেলেনস্কির এই সফরের পরই রুশ বাহিনী ব্যাপক হামলা চালালো বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।