একসময় রক সংগীতের মঞ্চে নারী শিল্পীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। সেই সময়ে পাঁচ কিশোরী মিলে গড়ে তোলা ব্যান্ড ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’ রক সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। ১৯৭৫ সালে হলিউডের সংগীত উদ্যোক্তা কিম ফাওলি একটি অল-গার্ল রক ব্যান্ড গড়ার পরিকল্পনা করেন। গীতিকার কারি ক্রোমের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় তরুণ গিটারিস্ট জোয়ান জেটের সঙ্গে। পরে হলিউডের বিখ্যাত রেইনবো বার অ্যান্ড গ্রিলের পার্কিং লটে তিনি খুঁজে পান ড্রামার স্যান্ডি ওয়েস্টকে। এভাবে গড়ে ওঠে ব্যান্ডটির সবচেয়ে পরিচিত লাইনআপ—শেরি কারি, লিটা ফোর্ড, জ্যাকি ফক্স, জোয়ান জেট ও স্যান্ডি ওয়েস্ট।

১৯৭৫ সালের শেষের দিকে তারা মারকারি রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’। অ্যালবামের প্রথম গান ‘চেরি বম্ব’ প্রকাশের পরই ব্যাপক আলোচনায় আসে ব্যান্ডটি। অ্যালবামের অন্যান্য গান যেমন ‘ইউ ড্রাইভ মি ওয়াইল্ড’, ‘রক অ্যান্ড রোল’, ‘ব্ল্যাকমেল’ ও ‘ডেড এন্ড জাস্টিস’—এগুলোতে সত্তরের দশকের গ্ল্যাম রক, হার্ড রক ও পাওয়ার পপের মিশ্রণ দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়নি। কেউ কেউ ভেবেছিল এটা কেবল কিশোরীদের ব্যান্ড, আবার কেউ বলেছিল তারা আসল সংগীতশিল্পী নয়, বরং একটি সাজানো প্রকল্প। কিন্তু দেশের বাইরে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে জাপানে তারা অভাবনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৭৭ সালে জাপান সফরে তারা ১০টি কনসার্ট করে, যার প্রতিটিতে হাজারো তরুণ ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। জোয়ান জেট নিজেই সেই উন্মাদনাকে বিটলম্যানিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। জাপানের সাফল্যের পর প্রকাশিত হয় তাদের লাইভ অ্যালবাম ‘লাইভ ইন জাপান’ (১৯৭৭)।

সাফল্যের পাশাপাশি ব্যান্ডটিকে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। প্রযোজক কিম ফাওলির নিয়ন্ত্রণ, ব্যান্ড সদস্যদের বয়স ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন সদস্য ফাওলির বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। ১৯৭৭ সালে জ্যাকি ফক্স ব্যান্ড ছাড়েন। এরপর শেরি কারি বিদায় নিলে জোয়ান জেট আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসেন। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘ওয়েটিং ফর দ্য নাইট’ অ্যালবাম। সদস্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডটি টিকে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৭৯ সালে তাদের পথচলার সমাপ্তি ঘটে।

ব্যান্ড ভেঙে গেলেও দুই সদস্য পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হন। জোয়ান জেট হার্ড রকের অন্যতম জনপ্রিয় নারী শিল্পী হয়ে ওঠেন। তাঁর ব্যান্ড ‘জোয়ান জেট অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাকহার্টস’-এর ‘আই লাভ রক অ্যান্ড রোল’ গানটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়। অন্যদিকে লিটা ফোর্ড আশির দশকের অন্যতম সফল নারী মেটাল গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ড্রামার স্যান্ডি ওয়েস্টও সংগীতে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু তরুণ শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকেন। শেরি কারি পরে অভিনয়েও সাফল্য পান। মাত্র কয়েক বছরের যাত্রায় ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’ প্রমাণ করেছিল যে রক সংগীত শুধু পুরুষদের জন্য নয়। তাদের দেখানো পথ ধরেই পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য নারী শিল্পী গিটার হাতে মঞ্চে উঠেছেন।