মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় দিনের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। আজ ভোররাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জবাবের প্রথম ধাপ মাত্র। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও একই ধরনের পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে 'চুক্তিভঙ্গকারী' বলে আখ্যায়িত করেছে।

এর আগে বুধবার ইরানের অভ্যন্তরে দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলাগুলোতে তারা ইরানের মোট ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকা।

মঙ্গলবারের প্রথম দফার হামলায় ইরানের আট সেনা নিহত হয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে। ইরান এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য উদ্বেগজনক।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি ইরানকে 'জঘন্য ও অসুস্থ মানুষ' বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তার এই বক্তব্যের পরই ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও এখন উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।