ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সিটি ব্যাংকের ন্যানো ঋণ সেবা। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া এই ক্ষুদ্রঋণ এখন সাধারণ মানুষের আর্থিক চাহিদা মেটানোর দ্রুত ও সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সিটি ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত সাড়ে চার বছরে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৩৫ লাখ গ্রাহককে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে এই অর্থ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি গ্রাহক গড়ে ৯ বারের বেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ নিয়েছেন। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বিকাশ ব্যবহারকারীর জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ থেকে সিটি ব্যাংকের এই ন্যানো ঋণ নিচ্ছেন, যার প্রতিটির গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা। মাসিক গড়ে ৯০০ কোটি টাকার মতো ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর আরেফিন জানান, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার যখন উদ্বেগজনক, সেখানে ছোট অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণের পোর্টফোলিওর মান প্রশংসনীয়। পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা বলে মন্তব্য করেন তিনি। গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে তিন ধরনের ঋণ সেবা পান—নগদ ঋণ, বাই নাও পে লেটার (পণ্য কেনার জন্য) এবং মোবাইল রিচার্জের জন্য পে লেটার। এগুলোর মধ্যে নগদ ঋণের অংশ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯৯ শতাংশ। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে শহরাঞ্চলের বাসিন্দার সংখ্যা ৬৩ শতাংশ, আর গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা ৩৩ শতাংশ। ৭৮ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পুরুষ এবং ২২ শতাংশ নারী। ডিজিটাল ন্যানো ঋণ চালুর পেছনে রয়েছে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই সেবা চালু হয়। প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় বছরে এই পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯৪ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে গ্রাহকেরা ৮৫৫ কোটি টাকার ঋণ নেন। তবে গত বছর ঋণ বিতরণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার গুণ বেড়ে ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছায়। চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের মোট বিতরণকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই ডিজিটাল ঋণ খাতে খেলাপির হার অত্যন্ত নগণ্য। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই নিয়মিতভাবে ফেরত এসেছে। বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিকল্প তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং দূরদর্শী ব্যাংকিং ও সুশাসনের সমন্বয়ে এই কার্যকর ডিজিটাল ঋণ মডেল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের মাইলফলক প্রমাণ করে যে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা লাখো গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
দিনে ১ লাখ গ্রাহক নিচ্ছেন সিটি ব্যাংক-বিকাশের ন্যানো ঋণ, ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বিতরণ
সিটি ব্যাংক ও বিকাশের ডিজিটাল ন্যানো ঋণ সেবা অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। দিনে প্রায় এক লাখ গ্রাহক ঋণ নিচ্ছেন। সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ, খেলাপি হার নগণ্য ০.৫ শতাংশ। গ্রাহকের ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলের, ৭৮ শতাংশ পুরুষ।

