যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের একটি জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীটির অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কপিরাইট মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে পারে এমন অত্যাবশ্যকীয় নথিপত্র আড়াল করে চলেছে।
বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবাদমাধ্যমগুলোর কপিরাইটযুক্ত প্রতিবেদন চ্যাটজিপিটি কী প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করেছে তা শনাক্ত করতে সক্ষম ডেটাসেট ও চ্যাট লগ (কথোপকথনের রেকর্ড) প্রকাশে ওপেনএআই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বাদীপক্ষের দাবি, সম্প্রতি এক জবানবন্দিতে ওপেনএআইয়ের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে, যা প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় অসদাচরণেরই ইঙ্গিত বহন করে।
নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও সংশ্লিষ্ট সাতটি পত্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী স্টিভেন লিবারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ‘চুরি করা সংবাদ কনটেন্ট ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ লুকিয়ে ফেলা ও ধ্বংস করায় ওপেনএআইকে শাস্তি প্রদানের জন্যই আদালতে এই আরজি জানানো হয়েছে।’ লিবারম্যানের ভাষ্য মতে, এআই প্রশিক্ষণে নিয়োজিত ডেটাসেট ও সংশ্লিষ্ট লগে কপিরাইট-সুরক্ষিত উপাদান খুঁজে বের করার দক্ষতা সম্পর্কে ওপেনএআই গত দুই বছর ধরে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে আসছে।
অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘টাইমসের মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধে আনীত কিছু অভিযোগ ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করতেও বাধ্য হয়েছে। তা সত্ত্বেও, তারা এখন এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে স্পষ্টত মিথ্যা অভিযোগও উত্থাপন করছে।’ এর আগে ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার অজুহাতে চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের রেকর্ড আদালতে জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০২৩ সালের শেষভাগে, যখন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই এবং তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, লাখ লাখ সংবাদ প্রতিবেদন বিনা অনুমতিতে সংগ্রহ করে নিজেদের এআই মডেল নির্মাণ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, মৌলিক সাংবাদিকতামূলক তথ্য সংগ্রহ ছাড়াই এআই চ্যাটবটগুলো এখন সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে, যা ওয়েবসাইটের পাঠক সংখ্যা হ্রাস ও রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৪ সালে গুগল যখন অনলাইন অনুসন্ধানে এআই-নির্মিত সারসংক্ষেপ প্রদর্শন শুরু করে, তখন গণমাধ্যমগুলোর এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ব্যবহারকারীরা মূল প্রতিবেদনের লিংকে ক্লিক না করায় ডিজিটাল আয় ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে।
এদিকে, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমাকৃত নথি অনুসারে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এ পর্যন্ত ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এই ব্যয়ের মধ্যে গত বছর এআই কোম্পানি পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক একটি মামলার খরচও অন্তর্ভুক্ত। তবে একই সময়ে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বেশ কিছু সংবাদ সংস্থা ওপেনএআই, গুগল ও মেটার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে লাইসেন্সিং চুক্তি সম্পাদন করেছে। এসব চুক্তির ফলে নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে এআই প্রশিক্ষণে সংবাদ আর্কাইভ ব্যবহারের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।




