প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ নয় দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। তবে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত দেবতাখুম পর্যটনকেন্দ্রটি আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ফলে পর্যটকদের সেখানে যেতে আরও চার দিন অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, রুমা ও থানচি উপজেলায় প্রশাসনের নির্ধারিত পর্যটন গন্তব্যে আজ থেকেই ভ্রমণ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
গত ৭ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনা করে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার পর্যন্ত বলবৎ ছিল। অর্থাৎ টানা নয় দিন পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার এস এম হাসান শাহরিয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভ্রমণে গিয়ে থানচি উপজেলার নাফাখুম, রেমাক্রী ও থুইসাপাড়ার দুর্গম এলাকায় ১৬৭ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। অন্যদিকে, রুমা উপজেলার কেওক্রাডং ও বগালেক এলাকায় আটকা পড়েন আরও ৩৭ জন। সব মিলিয়ে মোট ২০৪ জন পর্যটক বন্যায় আটকে পড়েছিলেন। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল ও পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার এস এম হাসান শাহরিয়ার জানিয়েছেন, টানা তিন দিন ধরে জেলার আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। বন্যার পানিও অনেকটাই কমে এসেছে। পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর বাড়ানো হয়নি।
পর্যটকদের আগের নিয়মেই প্রশাসনকে জানিয়ে এবং নিবন্ধিত ট্যুর গাইড নিয়ে ভ্রমণ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে দেবতাখুম পর্যটনকেন্দ্রের বিভিন্ন কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


