ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি রং উৎপাদন কারখানার আড়ালে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে মাদকের বড়ি ইয়াবা তৈরির এক চক্র সক্রিয় ছিল। এমন একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে ১৯ হাজার ইয়াবা বড়ি, উৎপাদনের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে, এবং ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাসির হোসেনকে (২৮) আটক করা হয়েছে।
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজমুল হাসান। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবান ফ্যাক্টরি সংলগ্ন মদিনানগর এলাকায় কারখানাটির সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে রোববার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বছিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ইসলাম মিঠু নামক এক ব্যক্তিকে প্রথমে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক অভিযানিক দলটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মদিনানগর এলাকার 'মদিনা কমপ্লেক্স' ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত 'নাসির কেমিক্যাল ইন্ড্রিজ' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়।
অধিনায়ক নাজমুল হাসান আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে গ্রেপ্তারকৃত নাসির হোসেন স্বীকার করেছেন যে, তিনি একটি রাসায়নিক দ্রব্য ও রং তৈরির কারখানার অপারেশনের ছত্রছায়ায় এই ইয়াবা উৎপাদন কেন্দ্রটি পরিচালনা করে আসছিলেন। তার নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশক ধরে এখান থেকে মাদকদ্রব্য উৎপাদিত হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হতো।
বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ ধরনের ঘটনা কেরানীগঞ্জে এটি প্রথম নয়। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই একই থানার শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় আরেকটি ইয়াবা তৈরির চক্রের খোঁজ পায় র্যাব-১০। সেখান থেকে প্রায় ১,৯৬৮টি ইয়াবা বড়ি, কাঁচামাল এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি উদ্ধার ছাড়াও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছিল, ওই কারখানাটি গত দুই বছর ধরে চালু ছিল।
র্যাব নিশ্চিত করেছে, আটক নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা রুজু করে তাকে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তকারীরা এখন এই গোটা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।




