প্রযুক্তি খাতে নতুন এক মাত্রা যোগ করে সম্প্রতি ৫০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ এ তহবিল সংগ্রহ করল লন্ডনভিত্তিক স্টার্টআপ ভ্যালেরিয়ান। এনইএ এই বিনিয়োগ রাউন্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে, যা ইউরোপে তাদের প্রথম প্রতিরক্ষা ও দ্বৈত-ব্যবহার বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই রাউন্ডের ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট তহবিল ৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ভ্যালেরিয়ানের উন্নত সফটওয়্যার ‘এসিআরএ’ মূলত এআই ওয়ার্কলোড ও সংবেদনশীল অ্যাপ্লিকেশনের জন্য একটি সুরক্ষিত কার্যক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। সরকারি বিভাগ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন বা মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু ভ্যালেরিয়ানের এই লেয়ার নির্ধারণ করে দেয় ঠিক কোন তথ্য বাইরে যাবে, কে তা ব্যবহার করবে এবং কখন এর প্রবেশাধিকার বন্ধ হবে। এই নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মার্কিন সিএলওউড অ্যাক্টের আওতায় আমেরিকান কর্তৃপক্ষ যে কোনো মার্কিন কোম্পানিকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা তাদের গ্রাহকদের তথ্য হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাক্স বুখান অবকাঠামোগত সার্বভৌমত্বের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমা সরকারগুলো স্বেচ্ছায় তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকান প্রযুক্তি জায়ান্টদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকর্নে পরিণত করতে সহায়তা করেন, যা পরে নাসডাকে ১.২ বিলিয়ন ডলারে তালিকাভুক্ত হয়। অপর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জোশ ম্যাকলাফলিন পূর্বে প্যালান্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বুখানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের তিনটি ক্লাউড সার্ভার ছিল—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ায়—এবং কেউ একে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করত না। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। গত বছর ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৪৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাজ্যের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় প্যালান্টি চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন অ্যানথ্রপিকের বিদেশি অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিলে বুখান মন্তব্য করেন, অবকাঠামোগত সার্বভৌমত্ব তখন বিমূর্ত নীতি আলোচনা থেকে সক্রিয় জরুরি অবস্থায় রূপ নিয়েছে। "অন্য একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একটি মডেল বন্ধ করে দেওয়ায় কেউ তা ব্যবহার করতে পারেনি," তিনি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন।

এনইএর অংশীদার মুস্তফা নীমুচওয়ালা, যিনি এই বিনিয়োগ রাউন্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভ্যালেরিয়ানের ব্যবসায়িক মডেলের প্রশংসা করে বলেন, এটি প্রতিরক্ষা খাতের ঐতিহ্যবাহী স্টার্টআপগুলোর তুলনায় ভিন্ন। "প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হলে তা কখনোই উৎপাদন সুবিধায় বেশি ব্যয় করার কারণে হবে না," তিনি মন্তব্য করেন।

ভ্যালেরিয়ানের এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার একটি সময়োপযোগী সমাধান হিসেবে দেখছেন। মার্কিন ক্লাউড জায়ান্টদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার এই পদ্ধতি আগামী দিনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।