মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় রাতভর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে দেশটির কৌশলগত অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত খোররামাবাদ শহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে হরমুজ প্রণালির বৃহত্তম দ্বীপ কেশম, বন্দর আব্বাস নগরী ও সিরিক বন্দরনগরী। দক্ষিণ–পূর্ব সিস্তান প্রদেশের চাবাহার, কোনারাক এবং রাস্ক থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার জেরে তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ–পশ্চিমের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে ‘শত্রুপক্ষের’ এমকিউ–৯ ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন সক্ষমতা ও উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করে সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সেন্টকম জানায়, ৯০ মিনিটের একটি অভিযানে গ্রেটার টুনব দ্বীপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার হামলায় ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক লোক আহত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বৃহস্পতিবার বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক পাল্টা আঘাত হানছে তেহরান। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে ইরান সব সমুদ্রপথ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগ্রাসনকারী’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। উল্লেখ্য, যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলেও ৭ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা আরও চলতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, ১০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে রেখেছেন, হামলা ও পাল্টা হামলা চলতে থাকলেও ইরানের সঙ্গে এখনো একটি ‘চুক্তি হওয়া সম্ভব’।


