বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল পণ্য সাম্রাজ্যের শীর্ষ নির্বাহী বার্নার্ড আর্নো সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এসে তার পরিবারের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই নিয়ে প্রচারিত একটি খবরকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ৭৭ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলার। তার পাঁচ সন্তানই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত থাকায় কে তার উত্তরসূরি হবেন তা নিয়ে কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মোঁদে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে আর্নোর সন্তানদের মধ্যে ‘ম্যাকিয়াভেলিয়ান’ চক্রান্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি চিঠি পোস্ট করেন, যা পরে এলভিএমএইচ-এর অফিশিয়াল একাউন্ট থেকেও শেয়ার করা হয়। ‘মেরসি’ শিরোনামের ওই চিঠিতে আর্নো তীব্র ভাষায় প্রতিবেদনটির সমালোচনা করে বলেন, কিছু ব্যক্তি ‘পরিবারের ফাটল ধরে পত্রিকা বিক্রির বাজি ধরেছেন’। ফ্রান্সের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক লে মোঁদের ওই প্রতিবেদনে তাকে ‘ফ্রান্সের শেষ রাজপরিবারের প্রধান’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। আর্নো লিখেছেন, তার সন্তানেরা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করেছিল তাদের কি এখন ‘নতজানু হয়ে অভিবাদন জানাতে হবে?’—এবং তারা এতে হেসেই ফেলেছিল। তিনি আরও উপহাস করে বলেন, তার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ‘অনুচিত সম্পর্ক’ রয়েছে বলার অর্থ দাঁড়ায় ‘আমার কেবল এভিনিউ মঁতেইনিতে থেকে কেবল আমার কুকুরের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল’—যা প্যারিসের বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউসের রাস্তা হিসেবে পরিচিত। আর্নো জানান, তিনি বিভিন্ন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলর এমনকি জাপানের সম্রাটের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনুদান দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি সরাসরি তিনি তার পরিবার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি লেখেন, ‘আমি একটি সূক্ষ্মতা দেখতে পেতাম: যে পাঁচটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব একই কোম্পানিতে ইতালীয় অপেরায় পরিণত না হয়েই কাজ করতে পারে। আর্নোদের মধ্যে, দৃশ্যত, আলোচনা না করে চক্রান্ত করা হয়; বিবেচনা না করে প্রতিযোগিতা করা হয়। এ সবই উপন্যাসের জিনিস।’ লে মোঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আর্নোর প্রথম স্ত্রীর সন্তান ডেলফিন ও অ্যান্তোয়ানের প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান আলেক্সঁদ্র, ফ্রেদেরিক ও জঁ-এর ঈর্ষা রয়েছে। এছাড়া আর্নোর স্ত্রী এলেনের সঙ্গে বড় সন্তানদের দ্বন্দ্বের কথাও উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে ডেলফিন এলভিএমএইচ-এর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পদে রয়েছেন—ডিওরের প্রধান নির্বাহী। অ্যান্তোয়ান প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও পরিবেশ বিষয়ক পরিচালক হিসেবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। আলেক্সঁদ্র মোয়েত হেনেসির উপ-প্রধান নির্বাহী, ফ্রেদেরিক লরো পিয়ানার প্রধান নির্বাহী এবং জঁ লুই ভিতোঁর ঘড়ি বিভাগের পরিচালক। আর্নো পাল্টা বলেন, ‘বাস্তব জগতে, আমার সন্তানেরা মেইসন চালায়, দল গঠন করে, সিদ্ধান্ত নেয় এবং—সবচেয়ে বড় অপরাধ—রবিবারে একে অপরকে ফোন করে। সাধারণ পরিবারে যাকে শুধু রবিবার বলা হয়, আমাদের ক্ষেত্রে তাকে চক্রান্ত বলা হয়। এটা শব্দচয়নের ব্যাপার। আমরা রবিবারকেই পছন্দ করি।’ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পার্শিং স্কয়ার-এর প্রধান নির্বাহী বিল অ্যাকম্যানও আর্নোর এই জবাবের প্রশংসা করেছেন। এক্স-এ তিনি লেখেন, এই চিঠি ‘পড়ার মতো’। অ্যাকম্যান দাবি করেন, এই প্ল্যাটফর্ম ‘গণমাধ্যমের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়ে এসেছে’। তিনি ইলন মাস্ককেও ধন্যবাদ জানান।