মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগを取り巻く ঘটনা এবার প্রকাশ্যে এল নতুন এক নাটকীয় কৌশলের মাধ্যমে। গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে, ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন তিনি। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দরজায় দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্তভাবে হাত নেড়ে ভেতরে ঢুকে যান ট্রাম্প। কিন্তু এরপরই যা ঘটে, তা ছিল সম্পূর্ণ গোপন ও বিভ্রান্তিকর। উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে ওই উড়োজাহাজ থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর তাঁকে একটি সামরিক উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয়, যা তাঁকে গোপনে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত সম্মেলনের শেষ দিন সকালে। মার্কিন গোয়েন্দারা রাতেই একাধিক সূত্র থেকে জানতে পারেন যে, ইরানি গোয়েন্দারা ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে হুবহু খবর রাখে এবং সম্মেলন এলাকায় কাঁধে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা গেছে। এই 'বিশ্বাসযোগ্য' হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দ্রুত বদলে ফেলা হয়। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই পরিকল্পনা প্রণয়নে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময়ও তিনি একই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কৌশল তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা যায়।
নিরাপত্তার এই কৌশল সম্পর্কে সবাই অবগত ছিলেন না। যারা জানতেন, তাদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় সহায়তা করার পর রুবিও নিজেও পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ করেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং, ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঐ উড়োজাহাজেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই হুমকির বিষয়ে জানতেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্পের নিরাপদ প্রস্থানের এই কৌশল প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। পরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে। ট্রাম্প পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠলেও, সাংবাদিকদের নিউইয়র্ক টাইমসের ফটোগ্রাফার ডগ মিলসসহ সবাইকে উড়োজাহাজের পেছনের অংশে উঠতে বলা হয় এবং জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ফাঁকে ট্রাম্পকে উড়োজাহাজের বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে দ্রুত বের করে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে রানওয়েতে পার্ক করা বোয়িং ৭৫৭-এর সামরিক সংস্করণ 'সি-৩২এ' উড়োজাহাজে তোলা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্যাটারিং কনটেইনারবাহী ট্রাকটি পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানের সামনের অংশ থেকে সরে গিয়ে সি-৩২এ-এর পেছনের দিকে যায়।
ওই দিন রাতেই তিনটি উড়োজাহাজ ইংল্যান্ডের মিলডেনহল সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছায়। কাতারের দেওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে, সি-৩২এ রাত ১০টা ২০ মিনিটে এবং পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ান ৯ মিনিট পর রাত ১০টা ২৯ মিনিটে পৌঁছায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সি-৩২এ উড়োজাহাজটির কোনো ফ্লাইট ডেটা সম্প্রচার করা হচ্ছিল না এবং এটি 'রিচ ১৮' কল সাইন ব্যবহার করছিল। মিলডেনহলে পৌঁছে ট্রাম্পকে গাড়িতে করে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে তুলে দেওয়া হয়। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিকভাবে উড়োজাহাজ থেকে নেমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত ছিল না। ওহাইও থেকে ফেরার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'এটি পুরোপুরি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভর করে। তারা যা করতে বলেছিল, আমি শুধু সেটাই মেনে চলেছি। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে যাই।' এর আগে সম্মেলন থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করে তিনি কাতারের উপহারের নতুন উড়োজাহাজে না চড়ে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ করবেন। নতুন উড়োজাহাজটিকে তিনি ইউরোপের দুই বা তিনটি বড় ঘাঁটিতে পাঠাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।




