ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচিত লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর লড়াই এখন কার্যত সমাপ্তির পথে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলার মাঠে এবং মাঠের বাইরে এই দুই মহাতারকা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে বিশ্ব ফুটবলকে নিজেদের করতলে রেখেছিলেন। তবে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দুই খেলোয়াড় যারা একই সঙ্গে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের পুনরাবির্ভাব হয়তো আর কখনোই ঘটবে না।

মেসি ও রোনালদোর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ফুটবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যালন ডি'অর জয়ের লড়াই, গোলের রেকর্ড, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে ফলোয়ার্সের সংখ্যাও যেন তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য যুদ্ধের মঞ্চ তৈরি করেছিল। ২০০০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ২০২০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত এই দুই তারকা পর্যায়ক্রমে ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। মেসির ছয়টি ব্যালন ডি'অর জয়ের পাশাপাশি রোনালদোর পাঁচটি জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে এই বিতর্ক চিরকালীন করে রেখেছে যে, কে সেরা?

তবে বয়সের ভারে এবং ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুজনেই এখন নিজ নিজ দলে খেলছেন। মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন, অন্যদিকে রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরে খেলছেন। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো থেকে তাদের বিদায় মানে এই দ্বৈরথের কার্যকরী সমাপ্তি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ফুটবল কি আর কখনো এমন দুই খেলোয়াড়কে একসঙ্গে দেখতে পাবে, যারা প্রায় দুই দশক ধরে একই সময়ে খেলার সর্বোচ্চ স্তরে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে?

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আধুনিক ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ এবং খেলার গতি-প্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে কোনো একক খেলোয়াড়ের পক্ষে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ডের মতো প্রতিভারা উঠে এলেও তাদের মধ্যে এই দুই কিংবদন্তির মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে কি না তা সময়ই বলবে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, মেসি-রোনালদোর যুগ ছিল ফুটবলের স্বর্ণযুগ, যা হয়তো আর কখনো ফিরে আসবে না।