প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ডিজনির সাথে যুক্ত থাকার পর সাবেক প্রধান নির্বাহী বব আইগার কোম্পানিটিকে চিরতরে বদলে দিয়েছেন — এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। মিকি মাউসের এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ ও গভীর। আইগারের নেতৃত্বকালীন সময়ে ডিজনি শুধু একটি অ্যানিমেশন স্টুডিও থেকে বিশ্বব্যাপী মিডিয়া ও বিনোদন সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

তার কর্মজীবনের শুরুটা ছিল এবিসি-তে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ডিজনির শীর্ষ পদে বসে সংস্থার কৌশলগত দিকনির্দেশনায় নেতৃত্ব দেন। আইগারের সময়েই ডিজনি একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান কিনে নেয়, যার মধ্যে রয়েছে পিক্সার, মার্ভেল এবং লুকাসফিল্ম। এসব অধিগ্রহণের ফলে ডিজনির কন্টেন্ট লাইব্রেরি বহুগুণে বেড়ে যায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকদের কাছে কোম্পানিটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে তার এই পথচলা কিন্তু মসৃণ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক মহামারির সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। তারপরও আইগারের কৌশলগত দূরদৃষ্টির কারণে ডিজনি নতুন যুগে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিজনি+ চালু করাও তার আমলের উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন থেকে সরে এসে নতুন প্রযুক্তির দিকে কোম্পানিকে ধাবিত করেছে।

তার অবসরের পর ডিজনির নতুন নেতৃত্বের কাঁধে এখন এই বিশাল সাম্রাজ্য ধরে রাখার দায়িত্ব। তবে আইগারের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার আগামী অনেক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কৃতি ও কৌশলকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। সূত্রের খবর, তার এই দীর্ঘ পথচলা ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা, কিন্তু প্রতিটি বাঁকেই তিনি ডিজনির ভবিষ্যৎকে প্রাধান্য দিয়েছেন।