জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশবাসীকে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সব দেখে মনে হচ্ছে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন।’ বুধবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব বয়স মানে না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেমন ১০ মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ সবাই রাজপথে নেমেছিল, তেমনই আগামীতেও বয়স বিপ্লবের পথে বাধা হবে না। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই এবং বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি; এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে একটি গণ–আন্দোলন। এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই—মাস্টারমাইন্ড হলো ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ। তিনি শহীদদের নিয়ে রাজনীতি পছন্দ করেন না বলে জানান, এবং শহীদদের কোনো দলের নয়, বরং জাতির সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারগুলোর সম্মানজনক পুনর্বাসনের দাবি জানান।
জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের দাবিগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব দাবি করেছিলেন, এখন সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা (সরকার) জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে। এ কারণে সরকারের অনেককে দেখলে জুলাই যোদ্ধারা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলছে—এটা জাতির জন্য লজ্জার।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণভোটের প্রশ্নে তাঁদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো কিছুর বিনিময়ে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসবেন না। জীবনের বিনিময়ে হলেও এই দাবি আদায় করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও ‘গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি’ ও ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে ফ্যাসিস্ট, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, মাত্র পাঁচ মাসেই জনগণ অস্থির হচ্ছে কেন? তিনি বলেন, ‘দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা বসে বসে আঙুল চুষব?’
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে বিভেদ না সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত কয়েক মাস যাবৎ তিনি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন বিভেদ সৃষ্টি না করতে। তিনি বলেন, গতকাল তিনটি জায়গায় যে হামলা হয়েছে, তা প্রমাণ করে আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের যেখানেই জুলুম হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। প্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইলে শুরুতেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে ফিরে আসে; তা না হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ূম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা।




