পাঁচ বিনিয়োগকারীর দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিনিয়োগ চাওয়ার সময় ওয়ান্ডারমাইন্ডের মূল্যায়ন ৯৫ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই মোবাইল অ্যাপসহ প্রতিশ্রুত পণ্য তৈরি করেনি। বরং তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়লেও কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা কর্মকর্তা বিনিয়োগকারীদের কিছু জানাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৫ সালে ডেলাওয়্যারের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় সেলেনা গোমেজ, তার মা ম্যান্ডি টিফি এবং নিউজলেটার নিউসেটের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েলা পিয়ারসনকে বিবাদী করা হয়েছে। গোমেজ প্রতিষ্ঠানটির 'চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার' ও বিপণন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু তার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করেছেন বলে বিনিয়োগকারীরা দাবি করেছেন।
বিনিয়োগকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, অ্যাপটি কখনো তৈরি হয়নি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি। ২০২১ সালে মা ও ড্যানিয়েলা পিয়ারসনের সঙ্গে যৌথভাবে গোমেজ এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। শারীরিক ফিটনেসের জন্য জিম ব্যবহারের মতো মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার রুটিন প্রচারের মাধ্যমে 'মানসিক ফিটনেস' ধারণাটি জনপ্রিয় করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেলেনা গোমেজের ৫০ কোটিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফলোয়ারকে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়ে বিনিয়োগকারীরা অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নে টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামসের ভেঞ্চার ফান্ড, লাইটস্পিড ভেঞ্চার পার্টনার্স ও সিকোইয়া ক্যাপিটালের মতো প্রতিষ্ঠান ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। পাঁচ বিনিয়োগকারী ১.২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, যার মধ্যে সাবেক অ্যালারগান সিইও ব্রেন্ট সন্ডার্সও ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি জেপি মরগান চেজ ও ফিডেলিটির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং বিজ্ঞাপন, সেলিব্রিটি কভার স্টোরিসহ নানা রাজস্ব আয়ের প্রকল্প শুরু করেছে — এমন মিথ্যা তথ্যও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য কাট পত্রিকার একটি নিবন্ধে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটের কথা জানতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, গোমেজ তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ অবহেলা করেছেন এবং প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বিবাদীরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন, আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ তুলে বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চেয়ে মামলা করেছেন। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত গোমেজ, টিফি ও পিয়ারসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




