ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক অ্যালিসন শনটেল সম্প্রতি পেরশিং স্কোয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও বিলিয়নিয়ার বিল অ্যাকম্যানের একটি বিস্তৃত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানা অজানা দিক। কেবল শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ নয়, একইসঙ্গে সমাজ, রাজনীতি আর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও বলেছেন অ্যাকম্যান।

অ্যাকম্যান জানান, কৈশোরেই তাঁর মধ্যে অদম্য এক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কাজ করত। বাবা তাঁকে কোনো ভাতা দিতেন না আর জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো উত্তরাধিকারও পাবেন না। তরুণ অ্যাকম্যান সেই সময়েই বাবার কাছে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে তিনি ৩০ বছর বয়সের মধ্যে মিলিয়নিয়ার, ৪০-এ ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ৫০ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হবেন। বাস্তবে তিনি এই প্রতিটি মাইলফলক সময়ের অনেক আগেই স্পর্শ করেছিলেন। হার্ভার্ড থেকে বেরিয়ে নিজের প্রথম ফার্ম ‘গথাম’ শুরু করার সময় ফোর্বস ৪০০ তালিকার ধনকুবেরদের সরাসরি ফোন করে অর্থসংগ্রহ করতেন অ্যাকম্যান। তাঁর যুক্তি ছিল, যদি এক কোটি ডলার তোলাই লক্ষ্য হয়, তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষদের কাছে গিয়ে অপেক্ষাকৃত সামান্য একটি অংক চাওয়া কেন হবে না? কয়েকজন তাতে সম্মতিও দিয়েছিলেন।

অ্যাকম্যানের চরিত্রের আরেকটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর অবিচল আস্থা নিজের মতের ওপর। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তাঁর ২৭ লাখ ফলোয়ার রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত আলোচনার-সমালোচনার মুখোমুখি হন। কয়েক বছর আগে পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি যখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ডিইআই নীতি কিংবা হার্ভার্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্লডিন গের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান, তখন তিনি নিজেই জানতেন যে তিনি শত্রু তৈরি করছেন। তবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিচলিত নন, বরং তাঁর অভিজ্ঞতা হলো, যত না সমালোচনা হয়, তার চেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ঘটনা ঘটে। নিজের চাকরি যাবে না—এই নিশ্চিন্ততা থেকেই তিনি মনে যা চান তাই সরাসরি বলেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট নিয়ে কিছু মানুষের বিতৃষ্ণা সম্পর্কে তিনি সরাসরি মন্তব্য করলেন যে এটি ‘বোকামি’।

সাম্প্রতিক বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অ্যাকম্যান উবার ও মেটার মতো কোম্পানির পক্ষে যুক্তি দেন। এছাড়া আনুমানিক আইপিও সামনে রেখে ওপেনএআই সম্পর্কে সন্দেহপ্রবণ এবং এনথ্রপিককে নিয়ে তিনি আশাবাদী। তবে সবচেয়ে ব্যক্তিগত যে বিনিয়োগের কথা বলেন, তা হলো ম্যানহাটানে একটি নতুন ব্রেন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। গত ছয় মাস ধরে একটি পারিবারিক স্বাস্থ্য সংকটের সঙ্গে ওঁৎপোতভাবে যুক্ত থেকে এই পরিকল্পনার সৃষ্টি। আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্যাশন প্রজেক্ট’ হিসেবে তিনি আমেরিকানদের আবার পুঁজিবাদকে ভালোবাসার শিক্ষা দিতে চান। জীবনযাত্রার সংকটের মধ্যে অনেকে যখন সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুকছে, তখন অ্যাকাডম্যান সেটিকে ‘একটি বিপর্যয়’ আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি নিউ ইয়র্কের রাজনীতিবিদের পরিকল্পনার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক করেন। তবে কেউ তাঁর মতামতের সঙ্গে একমত না হলে, তিনি প্রকাশ্যেই তাকে তর্কের আহ্বান জানান। তাঁর নিজের কোম্পানির সব কর্মী ও বোর্ড সদস্যদের কাছেও এই প্রত্যাশাটাই রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্য বলে যা বিশ্বাস করি তাতেই অবিচল থাকি, কিন্তু কেউ যদি আমাকে ভুল প্রমাণ করতে পারে, আমি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে আপনার যুক্তি শুনব এবং নিশ্চিতভাবেই সংশোধন করে নেব।’