মার্কিন মহিলা বাস্কেটবল লিগে (ডব্লিউএনবিএ) ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ানা ফিভারের খেলোয়াড় সোফি কানিংহাম সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, নারীদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নিষিদ্ধ করাই “সাধারণ জ্ঞান”। তার এই বক্তব্যের পর লিগজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে, বিশেষ করে সাবেক এনবিএ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে।

সাবেক এনবিএ তারকারা মনে করছেন, ডব্লিউএনবিএর বর্তমান যোগ্যতা নির্ধারণী নীতিমালার কারণে ট্রান্সজেন্ডার নারীরা ২০২৭ সালের ড্রাফটে অংশ নেওয়ার আইনি সুযোগ পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে লিগের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ নারী ক্রীড়ার সুরক্ষায় কঠোর নিয়মের দাবি জানাচ্ছেন, আবার অনেকে ট্রান্সজেন্ডারদের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

কানিংহামের মন্তব্যটি শুধু খেলোয়াড় মহলেই নয়, ভক্ত ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ক্রীড়ায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ। ডব্লিউএনবিএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন মৌসুমের আগে নীতিমালা পর্যালোচনা করতে পারে।

এরই মধ্যে সাবেক কিছু এনবিএ খেলোয়াড় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান নিয়মে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের জন্য ড্রাফটে অংশ নেওয়া সম্ভব, যা অনেকের মতে নারী বাস্কেটবলের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যে ডব্লিউএনবিএর ভবিষ্যৎ নীতিমালা কী হতে পারে, তা এখন সময়ই বলবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, কানিংহামের মন্তব্য একটি সংবেদনশীল বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছে, যা ক্রীড়াঙ্গন ছাড়িয়ে সামাজিক বিতর্কেও রূপ নিতে পারে।