মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী বলরুম নির্মাণ প্রকল্পে আপাতত গতি ফিরল। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস হোয়াইট হাউসকে প্রকল্পটির উপরিভাগের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সাময়িক অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে নিম্ন আদালতের রায় অনুযায়ী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত রবার্টসের এই এক পৃষ্ঠার আদেশ কার্যকর থাকবে। তবে আদেশে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বা কবে পরবর্তী রায় দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। রাজধানীর আদালত থেকে ওঠা জরুরি মামলার আবেদন শোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে তিনি এই আদেশে সই করেন।

এই বলরুম প্রকল্প ঘিরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসারের একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং রাজধানীর চেহারা নিজের মতো করে গড়তে চাইছেন, তখনই এই মামলা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাল। প্রশাসনের যুক্তি, হোয়াইট হাউস ও অন্যান্য ফেডারেল ভবন সংস্কারের পূর্ণ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বলরুম প্রকল্পটি অবশ্যই সম্পন্ন করা জরুরি। অথচ শুরুতে ট্রাম্প এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করার সময় জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তোলেননি; তিনি বলেছিলেন, নিজের কাছ থেকে অর্থসহ ব্যক্তিগত অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

অন্যদিকে, ঐতিহাসিক সংরক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন বলছে, ইস্ট উইং ভেঙে ফেলাসহ এই নির্মাণকাজ চালানোর একতরফা কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। সংস্থাটির আইনজীবীরা হোয়াইট হাউসকে নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করে “আদালতকে ফাঁকি দেওয়ার” চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, রবার্টসের এই আদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং তারা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। পুরো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ চলতে পারবে কি না, সে বিষয়ে এখন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ট্রাম্প অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রকল্পটি “নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং বাজেটের মধ্যে” এগিয়ে চলেছে।

মামলা চলাকালীন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলরুমের কাজ। বিচার বিভাগের আদালত দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ৯০ হাজার স্কয়ার ফুটের এই বলরুমের ৬৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইস্ট উইং ভেঙে ফেলার পর সেখানে দিনে ২০ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ চলছে। প্রায় ২০ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত অনুদান এই প্রকল্পে ব্যয় বা প্রতিশ্রুত হয়েছে। এর আগে এপ্রিলে একটি জেলা আদালত বলরুমের উপরিভাগের নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিলেও আপিল আদালতের প্যানেল তা সাময়িকভাবে স্থগিত ও পরে বহাল রাখে। জেলা বিচারক রিচার্ড লিওন শুধু ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ও সামরিক স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মনোনীত এই বিচারকের সিদ্ধান্ত আপিল আদালতে বহাল থাকে; সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের মনোনীত দুই বিচারক বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কংগ্রেসের, এটি “নির্বাহী বিভাগের স্ব-সহায়তার বিষয় নয়”। ট্রাম্পের মনোনীত তৃতীয় বিচারক অবশ্য বলেন, প্রকল্পটি চ্যালেঞ্জকারী সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীর মামলা করার আইনি যোগ্যতা নেই।

সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাউয়ার এই যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, কাজ বন্ধের সিদ্ধান্তটি “অসাধারণ ও অবৈধ”। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রকল্পটির সমাপ্তি “অত্যন্ত প্রয়োজনীয়”। সুপ্রিম কোর্টের জরুরি তালিকায় সম্প্রতি একের পর এক সাফল্য পেলেও, পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর ট্রাম্পের কিছু নীতিতেই বরং বিরুদ্ধ রায় দিয়েছেন বিচারপতিরা।