মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমস গ্রিয়ার জানিয়েছেন, স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি পথ এখনও প্রশাসনের হাতে রয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএ ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন। যদিও সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বেশ কিছু শুল্ক বাতিল করে দিয়েছে, গ্রিয়ার দাবি করেন, আইইইপিএ-র আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিরুদ্ধেই শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের পদ্ধতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গ্রিয়ার স্পষ্ট করে বলেন, আইনটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করেই স্পেনের মতো মিত্র দেশের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্কে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে এই আইন প্রয়োগের পথে হাঁটতে পারে।

গ্রিয়ারের মতে, আইইইপিএ-র অধীনে শুল্ক আরোপের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে সরাসরি আক্রান্ত হয়নি। বরং আদালত শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যেগুলো ট্রাম্প আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর বসিয়েছিলেন। ফলে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে স্পেনের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের আইনি বাধা এখন আর নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও গ্রিয়ার এই পদক্ষেপকে 'প্রয়োজনীয়' বলে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো দেশের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের রয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে স্পেনের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসানোর ঘোষণা আসতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার মতো দেশের ওপর ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক আরোপ করলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শুল্কগুলোর একটি বড় অংশ বাতিল হলেও, আইইইপিএ-র মতো আইন ব্যবহার করে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।