মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল ইজারা দিতে তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও সফল হতে পারেনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রতিবারই নানা জটিলতায় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়েছে। কখনো শিডিউল বিক্রি না হওয়া, আবার কখনো দরপ্রস্তাব জমা না পড়া বা ভিত্তিমূল্যের তুলনায় নগণ্য দর প্রস্তাব করা—এমন নানা ঘটনা ঘটেছে। ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কম দামে ইজারা পাওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই দরপত্র প্রক্রিয়া ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে। ইজারা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম উঠে এসেছে। তাঁরা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, বর্তমান ভিত্তিমূল্যে ইজারা নেওয়া লাভজনক নয়। গত অর্থবছরে টার্মিনালটির ইজারা হয়েছিল ২ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। এবার ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ বাস থেকে ৫০ টাকা হারে টোল, ৫০টি লেগুনা ও অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা হারে টোল এবং শৌচাগার ব্যবহার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় সম্ভব বলে হিসাব করছে ডিএনসিসি। এছাড়া টার্মিনালের ভেতরের ৯৭টি দোকান ও টিকিট কাউন্টার থেকে মাসে ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বাইরে থেকে যত চক্র বা পাঁয়তারা থাকুক না কেন, কাউকে নিয়মের বাইরে গিয়ে কম দামে ইজারা দেওয়া হবে না। টার্মিনালটির আগের ইজারা শেষ হয় গত ১৪ মার্চ। তারপর থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ১০২ দিনে দোকান ও টিকিট কাউন্টারের ভাড়া বাদে আয় হয়েছে ৫৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা দৈনিক গড়ে ৫৩ হাজার ৮৪২ টাকা। সেই হিসাবে বছরে মোট সম্ভাব্য আয় দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রত্যাশিত আয় আদায় সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, ইজারা ব্যবস্থায় এই সংকট থাকবে না, তাই বর্তমান ভিত্তিমূল্যই বাস্তবসম্মত। দরপত্র প্রক্রিয়ায় যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের স্বজন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ হোসেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন। প্রথম দফার দরপত্রে ১১টি শিডিউল বিক্রি হলেও কোনো দরপ্রস্তাব জমা পড়েনি। দ্বিতীয় দফায় চারটি শিডিউল বিক্রি হয়, যার মধ্যে তিনটি দরপ্রস্তাব জমা পড়লেও সেগুলো ভিত্তিমূল্যের অর্ধেকেরও কম ছিল। তৃতীয় দফার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়েও কোনো শিডিউল বিক্রি হয়নি। আগের ইজারাদার কামরুল হুদা জানিয়েছেন, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সাড়ে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ব্যাংক সুদের খরচ ওঠেনি। তাই এবার দরপ্রস্তাব জমা দেননি। তিনি দাবি করেছেন, ইজারার দর দেড় কোটি টাকায় নামানো হলে ৬০-৭০ লাখ টাকা মুনাফা সম্ভব হবে। শেখ ফরিদ হোসেনও লোকসানের কথা জানিয়ে দরপ্রস্তাব না দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে চাঁদপুরের শাখাওয়াত হোসেন এক কোটি টাকা দর প্রস্তাব করলেও তা ভিত্তিমূল্যের তুলনায় অনেক কম। ডিএনসিসির প্রশাসক জানিয়েছেন, তিন দফা দরপত্র আহ্বানের পর নিয়ম অনুযায়ী দর পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাফরুল থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান দাবি করেছেন, হুমকি পাওয়ায় তিনি দরপ্রস্তাব জমা দেননি। তবে কারা হুমকি দিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেননি।