রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নিয়েছে। দলটি ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ভিন্ন চিত্র দেখা দেয়। জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যেই এই একই সিটি করপোরেশনে তাদের নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে। দলটি সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র পদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে নামিয়েছে।
জামায়াতের ঘোষণা যদি আনুষ্ঠানিক হয়, তাহলে দুই মিত্র দলের ভিন্ন প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জোটের অভ্যন্তরে একপ্রকার সমন্বয়হীনতা প্রকট হতে পারে। সাদিক কায়েম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও তরুণ রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। অপরদিকে আসিফ মাহমুদ অন্তবর্তী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা দিয়ে নাগরিকদের কাছে বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, উভয় দলের ঘোষণা নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি নৈতিক সঙ্ঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ থাকতে দুই দলের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অথবা এও হতে পারে যে দুজনেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোটাররা পাবেন ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গীকারের সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ।
এদিকে সাদিক কায়েমের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একজন তরুণ, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে সাদিক কায়েমকে উপযুক্ত মনে করছে তারা। তেমনই, এনসিপি তাদের প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম জানান দেওয়াতে, এখন মাঠের রাজনীতি যে ভিন্নমাত্রা পেতে যাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।
পরবর্তী সময়ে দুই দলের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কে বা কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকেন, সেই দিকে নজর থাকবে সকলের।




