বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা এখন আর ধানমন্ডির সীমানায় আটকে নেই। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে—সংগীতচর্চার এই বিদ্যাপীঠ এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং বিদেশের মাটিতেও। প্রবাসী সংগীতপ্রেমী কিংবা ঢাকার বাইরে অবস্থানকারী আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এবার সরাসরি ছায়ানটের তত্ত্বাবধানে সংগীত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। রোববার (১৬ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘প্রবাসী ও ঢাকার বাইরের সংগীতানুরাগীদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এই উদ্যোগ।
এ উপলক্ষে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রীতিকে সম্মান জানিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয় ‘মানুষ হ, মানুষ হ, আবার তোরা মানুষ হ’ গানটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ, সংগীত বিদ্যায়তনের নতুন অধ্যক্ষ সেলিনা মালেক চৌধুরী এবং অনলাইন শিক্ষার চার প্রশিক্ষক—শারমিন সাথী ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও টিংকু কুমার শীল।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ জানান, এত দিন ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা কার্যক্রম কেবল রাজধানীর সংস্কৃতি ভবনকেই ঘিরে আবর্তিত হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল কিংবা বিদেশে বসবাসকারী সংগীতানুরাগীদের জন্য সেই পথ খোলা ছিল না। তবে ২০১৪ সালে ‘সহস্র কণ্ঠে জাতীয় সংগীত’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ছায়ানট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পা রাখে। এরপর নানা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল সক্ষমতা বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে এখন সংগীত শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলো।
নতুন এই কার্যক্রমে ‘সংগীত-পরিচয়’ কোর্সে প্রতি রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও লোকসংগীতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে শিশু-কিশোর ও সাধারণ—বয়সভিত্তিক দুই শাখায় মোট ১২১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ জন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৭ জন, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে ৯ জন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৯৩ জন অংশগ্রহণ করছেন। প্রথম পর্যায়ের ক্লাস শেষে পরবর্তী ধাপ ‘নিবিড় শিক্ষণ’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন অগ্রসর শিক্ষার্থীরা। সেখানে লোকসংগীতে কিরণ চন্দ্র রায়, নজরুলসংগীতে খায়রুল আনাম শাকিল এবং রবীন্দ্রসংগীতে লাইসা আহমদ—এ তিন গুণী শিল্পী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের বৃহত্তম সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদের কোর্সে সংগীতচর্চা করছেন। এবার সেই শিক্ষা কার্যক্রম ভবনের সীমানা পেরিয়ে সারাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত হলো, যা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আগ্রহীরা ছায়ানটের ওয়েবসাইট থেকে এই কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।




