মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য করদাতাদের যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে, সে সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসে পেশ করা প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলার।

এই বিপুল ব্যয়ের অনুমানটি ২০২৭ থেকে ২০২৯ অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য। ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ওয়ারেন এই তথ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) সরবরাহ করেন। গত গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক জরুরি আদেশের মাধ্যমে এ অভিযান শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, ওয়াশিংটনের রাজপথে অপরাধ দমনই এই অভিযোগের উদ্দেশ্য। সশস্ত্র গার্ড সদস্যদের আটক অভিযানে সহায়তার পাশাপাশি তুষারপাত পরবর্তী কাজ ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রকল্পেও ব্যবহার করা হচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মোতায়েনকৃত সেনার সংখ্যা বেড়ে প্রায় পাঁচ হাজারে দাঁড়ায়।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটনে গড়ে ২,৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য অবস্থান করবেন বলে ধরে নিয়ে এই ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এর সমালোচনা করে ওয়ারেন এক ইমেইল-কৃত বিবৃতিতে বলেছেন, "আমেরিকান পরিবারগুলো যখন উর্ধ্বমুখী খরচের চাপে পিষ্ট হচ্ছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সড়কে একটানা বছরের পর বছর সেনা রাখতে ১৪০ কোটি ডলার খরচ করছেন।" তিনি আরও বলেন, "ন্যাশনাল গার্ড কাউরো পাইক নয়, আর করদাতার পয়সা ট্রাম্পের রাজনৈতিক চমকের জন্য কোনো পিগি ব্যাংক নয়।"

মূলত ওয়াশিংটন পোস্টই প্রথম এই খরচের খবর প্রকাশ করে। গত মাসে পেন্টাগন জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট কর্তৃক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত গার্ড মিশন চালু থাকবে। আগেও মেয়াদ বাড়ানোর পর এবারের মোতায়েন চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জায়গায় ন্যাশনাল গার্ডের ব্যবহার সীমিত হলেও ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে অব্যাহত আছে, যেখানে প্রেসিডেন্টই ডিসি গার্ডের সরাসরি কমাণ্ডার। তবে, রাজ্য প্রশাসন তাদের ইউনিটের মেয়াদ দুই বছরের বেশি বাড়াবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। জুলাইয়ের শেষের তথ্য অনুযায়ী, ডিসি এবং ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরির ৪,৬০০ সামরিক সদস্য সেসময় শহরে অবস্থান করছিলেন। জর্জিয়ার প্রায় ৮০০ সদস্য সেখানে মোতায়েন, যা স্থানীয় ডিসি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যর চেয়েও বেশি। আবার, আর্কানসাসের প্রায় অর্ধেক সেনা এ মাসের শেষে প্রত্যাবর্তন করবে এবং অক্টোবরের শেষে আরও ১২৩ জনের ফেরার কথা রয়েছে।

এই বিপুল ব্যয়ের খবরে ওয়াশিংটনবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফ্রিডিসি আন্দোলনের এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাসিন্দা ডোনা পাওয়েল বলেন, "তারা সর্বত্রই আছে, যেখানে ছায়া সেখানেই লুকিয়ে আছে। এই অর্থ তাদের (জনগণের) স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের প্রয়োজনে ব্যয় করা যেত, কিন্তু আমরা আমাদের টাকা নষ্ট করছি।" স্থানীয় কর্মকর্তারা এ মোবাজেনকে শহরের স্বায়ত্তশাসনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করে আসছেন, আর ডেমোক্রাটরা বলছেন, এটি জনগণের খরচে রাজধানীর পথঘাট সেনাবাহিনী করণ।