ইরানের ছোঁড়া আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় বিমান হামলা আরম্ভ করেছে। এর মধ্য দিয়ে দিন-কয়েকের বিরতির পর দুই পক্ষ আবারও সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল। এই হামলা পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে, যা মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উভয় দেশের মধ্যে টানা কয়েকদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু বুধবারের এই আকস্মিক হামলায় সেই নিরবতা ভেঙে যায়। পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ইরানের পূর্বের হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতেই এই বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে।

সামরিক বিশেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা আঘাত অত্যন্ত সীমিত ও গোপনীয়তার সাথে পরিচালিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে দুর্বল করা কিন্তু সংঘাতকে বড় আকারে না ছড়ানো। তবুও, এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করছেন।

প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন ইরান পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আগেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছিল, তবে সম্প্রতি কয়েক দিন কোনো কিছু ঘটেনি। বর্তমান হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও গভীর হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বনেতারা এই সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আবারও তৎপরতা শুরু করেছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।