ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওরাকলের শেয়ার বাজারে গত এক মাস ধরে তীব্র পতন চলছে। সোমবার বিকেল নাগাদ কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি কমে ১৩৩ ডলারের নিচে নেমে যায়। ১ জুনের পর থেকে এই শেয়ার মূল্য ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ওরাকলের বাজার মূলধন প্রায় ৪৯৪ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে আনতে বাধ্য করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৮৭৭.১ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে বর্তমানে প্রায় ৩৮৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসের শেষেও এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৪৯ বিলিয়ন ডলার।
এই ধসের ফলে ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসনের ব্যক্তিগত সম্পদে ব্যাপক ধাক্কা লেগেছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার তার সম্পদ ৮ বিলিয়ন ডলার কমে ১৭৫.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান থেকে তিনি অষ্টম স্থানে নেমে এসেছেন। বর্তমানে তার ঠিক উপরে রয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, যার সম্পদের পরিমাণ ১৭৬.৩ বিলিয়ন ডলার। তবে হুয়াংয়ের সম্পদও এনভিডিয়া শেয়ারের দরপতনে ৬ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ জুন এলিসনের সম্পদ ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; সেই তুলনায় বর্তমানে তা ১২৪.৮ বিলিয়ন ডলার সঙ্কুচিত হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা ওরাকলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রশ্ন তুলছেন। কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যা আরও ২৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে মেলিয়াস রিসার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠান যদি আরও কম্পিউটিং সক্ষমতা দাবি করে, তাহলে এই ব্যয় পরিকল্পনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বৃহস্পতিবার ওরাকলের ঋণমান হ্রাস করেছে। তাদের মতে, কোম্পানির দ্রুত সম্প্রসারণশীল এআই পরিকাঠামো ব্যবসা ভবিষ্যতে মুনাফা আনতে পারে, তবে আপাতত তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ওরাকলের আর্থিক অবস্থা দুর্বল করতে পারে।
জুনের শুরুর দিকে ওরাকল তাদের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওয়াল স্ট্রিট কোম্পানিটির ব্যাকলগ অর্ডার ৬৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে আশা করেছিল, যা আক্রমণাত্মক সম্প্রসারণ কৌশলের সাফল্যের লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ওরাকল ত্রৈমাসিক আয় ও মুনাফার পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেলেও ভাইটালের বিশ্লেষক অ্যাডাম ক্রিসাফুলি বলেছেন, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কোম্পানির বিক্রয় নির্দেশিকা 'হতাশাজনক' ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওরাকল পূর্বের ৯০ বিলিয়ন ডলারের মোট রাজস্ব নির্দেশিকাই পুনর্ব্যক্ত করেছে, আর অনুরূপ পদক্ষেপ ব্রডকমও নিয়েছিল, যা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছিল।
এদিকে স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনের কারণে এলন মাস্কের সম্পদও ৯০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক পাবলিক অফারিংয়ের পর এই প্রথম। মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৮৭১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪৫.৭ বিলিয়ন ডলার কম।

