জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের পরিচালনা পর্ষদে করা পরিবর্তনসংক্রান্ত নির্দেশনা আপাতত স্থগিত করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় আগের সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে কলেজটির সভাপতি করা হয়েছিল। বিষয়টি মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলায় রুলসহ আদেশ দেন। আদালত তিন মাসের জন্য ওই পদ পরিবর্তনের কার্যকারিতা স্থগিত করে। রিটকারীর আইনজীবী নূর উল মতিন জানান, এই স্থগিতাদেশের ফলে শিহাব উদ্দিন খান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।

গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে সাবিনা সিদ্দিকাকে সভাপতি এবং শিরিন আফরোজকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়। এতে করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য শিহাব উদ্দিন খানকে সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়। অধ্যাপক ফকির রফিকুল আলমের জায়গায় শিরিন আফরোজকে আনা হয়। শিহাব উদ্দিন খানের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগে এই পরিবর্তন আনা হয়, যা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৩ জুলাইয়ের স্মারকপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হলো। তিনি জানান, বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম এ জামান ই-মেইলের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, সাভারের এমপি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে ৯ জুলাই গাজিরচট আকবর মন্ডল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়। অথচ উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা পদাধিকারবলে কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন না। এমপির ছোট ভাই দেওয়ান মোহাম্মদ মঈনউদ্দিনকেও জুন মাসে শিমুলিয়া শ্যামা প্রসাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।