কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি চুরি যাওয়া নৌকার খোঁজ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাদ্দাত হোসেন (২০) নামের এক তরুণ। গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সাদ্দাত স্থানীয় একটি কয়েল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আরমান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাদ্দাতের মামা স্বপন মিয়া পেশায় জেলে। তিনি বাড়ির পাশের ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাঁর মাছ ধরার নৌকাটি বাড়ির ঘাট থেকে চুরি যায়। স্বপন মিয়ার অভিযোগ, একই এলাকার আনার মিয়া নৌকাটি চুরি করেছেন। আনারের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বজনেরা জানান, নৌকার সন্ধান চাইতে কয়েক দিন আগে আনারের কাছে গিয়েছিলেন স্বপন মিয়া। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল রাত নয়টার দিকে এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে আনারের দেখা পান সাদ্দাত। এ সময় তিনি মামার চুরি যাওয়া নৌকার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে নিয়ে গিয়ে সাদ্দাতের গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দাতকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানিয়া ইসলাম জানান, ওই তরুণের গলার বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সাদ্দাতের মা শিউলী বেগমের দাবি, গলায় আঘাত পাওয়ার পর তাঁর ছেলে তাকে কল করে জানিয়েছিলেন, মামার নৌকা ফেরত চাওয়ায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দায় বসে কাঁদছেন সাদ্দাতের মামা স্বপন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আনার ডাকাইত আমার নৌকা নিছে। নৌকা নাই হওয়ার পর মাছ ধরা বন্ধ, সংসার চালাইতে কষ্ট হইতাছে। নৌকার খোঁজ করার লাইগগা আনারের কাছে গেছিলাম। নৌকা তো পাইলাম না, উল্টা আমার ভাগনেরে হারাইলাম।’
আজ মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পরপরই পলাতক রয়েছেন আনার।




