পিজ্জা, পাস্তা, আলু, ও প্রোটিন— ইতালির শিশুদের খাদ্যতালিকার এই উপাদানগুলোই এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারার চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের এই দেশটিতে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ইতালির শিশু-কিশোররা এখন ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস থেকে সরে আসার প্রবণতা। যেখানে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষেরা একসময় প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, জলপাইয়ের তেল ও পরিমিত মাছ খেতেন, বর্তমান সময়ে ইতালীয় শিশুরা ক্রমশ উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞ দের মতে, দেশীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা পাস্তা ও পিজ্জার মতো খাবারগুলো এখন স্বাস্থ্যকর উপকরণে নয়, বরং অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত শস্য, চিজ ও চর্বিযুক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি হচ্ছে।

ডাব্লিউএইচওর এই প্রতিবেদনটি এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংস্থাটির বক্তব্য, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়া এই সংকটের মূল নিয়ামক। ইতালির এই পরিস্থিতি একটি বৈপরীত্যের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে ভূমধ্যসাগরীয় ধারা খাদ্যাভ্যাসকে এখনো বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের মডেল হিসেবে প্রচার করা হয়, সেখানে সেই দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মই বিপরীত বাস্তবতার মুখোমুখি।

পিতা-মাতা ও সমাজকর্মী মহলে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কী করে দ্রুত এ ধারার পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়েও চলছে নানান আলোচনা। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, পারম্পারিক খাবারগুলোকে সঠিক ও পরিমিত উপায়ে রান্নার পাশাপাশি শিশুদের বাইরের খেলা ও ব্যায়ামের প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। স্কুলের খাবারের মেনু সংস্কার থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারাভিযান— বিভিন্ন উপায়ের কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও ইতালির শিশুরা ইউরোপের অন্যতম মোটা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, তবুও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই মনে করছে, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই প্রবণতাকে পেছনে ফেলা সম্ভব। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতেই মূল সমাধান নিহিত।