ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শিরোপা জয় কিংবা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্বদেশে ফেরার মুহূর্তগুলো সবসময়ই আবেগঘন ও স্মরণীয় হয়ে থাকে। সম্প্রতি ফিফা এমন ১২টি ঐতিহাসিক ছবির একটি সংকলন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে লাখো সমর্থকের সামনে প্রিয় দলগুলোর ট্রফি প্রদর্শন ও বিজয় মিছিলের দৃশ্য।
এই সংকলনের শুরু ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে। মেক্সিকোতে জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেওয়া ব্রাজিল দলের কোচ মারিও জাগালো ও অধিনায়ক কার্লোস আলবার্তো ট্রফিটি উন্মাত্ত জনতার সামনে তুলে ধরেন। এর চার বছর পর, ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ফাইনালে পরাজিত হলেও ‘টোটাল ফুটবলের’ জন্য নেদারল্যান্ডস দল পায় আমস্টারডামের লাইডসেপ্লেইন স্কোয়ারে বিশাল সংবর্ধনা।
১৯৯৮ সালের স্বপিছনে প্যারিসের বিখ্যাত শঁজ-এলিজে সড়কে একটি খোলা বাসে চড়ে বিজয় শোভাযাত্রা করেন দিদিয়ের দাশম ও জিনেদিন জিদানরা। ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে বিশ্বজয় শেষে ব্রাসিলিয়ার রাজপথে এক মিউজিক ট্রাকে চড়ে উৎ্সব পালন করে ব্রাজিল দল, যেখানে জনপ্রিয় অ্যাক্সে সংগীত তারকা ইভেতে সাঙ্গালোও পারফর্ম করেন।
ইউরোপের মাটিতে ২০০৬-এ জয় পাওয়া ইতালি দলকে রোমের মার্সেলো থিয়েটারের নিকটবর্তী এলাকায় ছাদখোলা বাসে করে বরণ করে নেওয়া হয়, দলে ছিলেন ফ্যাবিও কানাভারোরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেন দল মাদ্রিদের পথে অনুরূপ সম্বর্ধনা লাভ করে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতেই শিরোপা জিতে বার্লিনের ফ্যান মাইলে ভিড় করা জার্মান সমর্থকদের সামনে ট্রফি উঁচু করে ধরেন বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার।
শিরোপা না জিতেও যে সুনাম পাওয়া যায়, তা প্রমাণ করে ২০১৮ সালের ক্রোয়েশিয়া দল। ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে গেলেও দেশে ফিরে তারা পায় অভাবনীয় সৌজন্য। সেই আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দলও একই বছর প্যারিসের শঁজ-এলিজেতে বিজয় মিছিল করে। ২০২২ সালে আফ্রিকার ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো দলকে স্বাগত জানাতে রাবাতের রাজপথে সারিবদ্ধ হন অগণিত মানুষ। একই টুর্নামেন্টে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ট্রফি উদ্ধারের পর বুয়েনস এইরেসে এক অসামান্য উদ্যাপনের দৃশ্যও ধরা পড়ে।
সবশেষ স্থান পেয়েছে ২০২৬ সালের ফাইনালের কথা। আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার পরের দিনই মাদ্রিদের রাজপথে স্পেন দলের ট্রফি নিয়ে উদ্যাপনের চিত্র এই সংকলনটির সমাপ্তি টানে।




