আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চকর। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয়। তবে এই ম্যাচের আলোচিত একটি বিষয় হলো মিসরের কোচ হোসাম হাসানের একটি অঙ্গভঙ্গি। যোগ করা সময়ে তিনি ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দুই হাত আড়াআড়ি করে মাথার উপরে তুলে 'এক্স' চিহ্নের মতো একটি সংকেত দেখান। সহকারী রেফারিদের নজর কাড়তে তিনি এই অঙ্গভঙ্গি করেন। এই মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভাবতে শুরু করেন, এই সংকেতের প্রকৃত অর্থ কী?

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়মানুযায়ী, দুই হাত কবজি বরাবর আড়াআড়ি করে উঁচু করে দেখানো ‘এক্স’ চিহ্ন একটি অফিসিয়াল সিগন্যাল। এর উদ্দেশ্য হলো মাঠে বর্ণবাদ বা বৈষম্যমূলক আচরণের ঘটনা জানানো। ২০২৪ সালের মে মাসে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে এই সংকেতটি অনুমোদিত হয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি ফিফার একটি সুসংহত প্রক্রিয়ার অংশ, যার মাধ্যমে খেলোয়াড়, কোচ বা কর্মকর্তারা সরাসরি এই ধরনের অভিযোগ জানাতে পারেন।

এই ম্যাচে হোসাম হাসান সংকেতটি দেখান আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের (৯০+২ মিনিট) পর। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরীয় কোচের দাবি ছিল ওই গোল উদযাপনের সময় তার দলের কোনো সদস্য বর্ণবাদী গালিগালাজের শিকার হন। তবে ঘটনার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

ফিফার এই সংকেত প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে সংকেত দেখানোর সাথে সাথে রেফারি খেলা থামিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারেন। দ্বিতীয় ধাপে যদি বৈষম্যমূলক আচরণ অব্যাহত থাকে, তাহলে রেফারি খেলা বন্ধ করে উভয় দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে পারেন। সর্বশেষ ধাপে মারাত্মক পরিস্থিতিতে ম্যাচ স্থায়ীভাবে বাতিল করার ক্ষমতা থাকে রেফারির। তবে এই সংকেত দেখানোর অর্থ এই নয় যে, ম্যাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এটি মূলত একটি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।

ম্যাচের রেফারি ফরাসি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে সংকেত পাওয়ার পর মিসরের ডাগআউটের কাছে যান। তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মিসর কোচকে একটি হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ম্যাচটি থামাননি তিনি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অন্তত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। আবার অনেকে মনে করেন, প্রমাণের অভাবে এই নিয়ম প্রয়োগের মতো যথেষ্ট কারণ ছিল না।

২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপই প্রথম আসর, যেখানে এই অঙ্গভঙ্গি ফিফার দৃশ্যমান ও আনুষ্ঠানিক নিয়ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতীয় দলের প্রধান কোচের দ্বারা এই সংকেত ব্যবহারের প্রথম বড় ঘটনা এটি। হোসাম হাসানের এই অঙ্গভঙ্গি ফিফার নিয়ম এবং এর প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।