ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের প্রাজোগো প্যাঙ্গেস্তু-নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল গোষ্ঠী চন্দ্র আসরি প্যাসিফিক এবার অটোমোটিভ খাতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জার্ডিন সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজের মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত গাড়ি ডিলারশিপ ব্যবসা অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে, যার মোট মূল্য ২৬.৫ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার—প্রায় ২০.৮ কোটি মার্কিন ডলার। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাকার্তা-ভিত্তিক কোম্পানিটি এই তথ্য নিশ্চিত করে। লেনদেনটি চন্দ্র আসরি গ্রুপের সিঙ্গাপুরে বিদ্যমান জ্বালানি ব্যবসার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসো ব্র্যান্ডের জ্বালানি খুচরা নেটওয়ার্ক অধিগ্রহণসহ দেশটিতে চলমান সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হলো।

এই অধিগ্রহণ চন্দ্র আসরি গ্রুপকে একটি শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক জ্বালানি, রাসায়নিক, অবকাঠামো ও গতিশীলতা সমাধান সরবরাহকারীতে রূপান্তরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন সিপুত্রা এক বিবৃতিতে বলেন, “সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ চন্দ্র আসরি গ্রুপের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।” তবে লেনদেনটি জার্ডিন সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজের কয়েকটি অংশীদারের অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রচলিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল বলে জানানো হয়েছে।

অপরপক্ষে, জার্ডিন সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজ—যা কেসউইক পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন জার্ডিন ম্যাথেসন হোল্ডিংসের অধীন—১৮৯৯ সাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সিঙ্গাপুরে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি সুবিধা পরিচালনা করে, যেখানে মার্সেডিজ-বেঞ্জ, কিয়া ও মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের গাড়ি বিক্রি হয়। রিপাবলিক অটো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রি, গাড়ি লিজিং পরিষেবা এবং লজিস্টিক্স কোম্পানিগুলোর জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন সরবরাহের কাজও করে তারা। মালয়েশিয়ার বাজারে জার্ডিন সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজ মার্সেডিজ-বেঞ্জ ডিলার হিসেবে ১১টি বিক্রয় ও সেবাকেন্দ্রের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

জার্ডিন এক পৃথক বিবৃতিতে জানায়, “এই প্রস্তাবিত লেনদেনের মাধ্যমে আমরা সাইকেল অ্যান্ড ক্যারেজ ব্যবসা থেকে মূল্য উন্মোচন করতে সক্ষম হব। একই সঙ্গে আমরা আমাদের মূল বাজার ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য একটি ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে পারব।” লেনদেন থেকে প্রাপ্ত অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে।

অন্যদিকে, প্যাঙ্গেস্তু সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরে চন্দ্র আসরির ব্যবসা সম্প্রসারণে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্য বাণিজ্য জায়ান্ট গ্লেনকোরের সঙ্গে যৌথভাবে শেলের শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল সম্পদ অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে গোষ্ঠীটি। এর ঠিক পাঁচ মাস পর সিঙ্গাপুরে এসোর পেট্রল স্টেশনের নেটওয়ার্কও অধিগ্রহণ করে চন্দ্র আসরি। বারিটো প্যাসিফিকের অংশ হিসেবে চন্দ্র আসরি একটি কাঠ ব্যবসা থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্টে পরিণত হয়েছে। ফোর্বসের রিয়েল-টাইম তথ্য অনুসারে, প্যাঙ্গেস্তু ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম; তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১,৭২০ কোটি মার্কিন ডলার। তার ব্যবসায়িক আগ্রহের মধ্যে রয়েছে কয়লা খনির প্রতিষ্ঠান পেট্রিন্ডো জয়া ক্রেসি, যা ২০২৩ সালে জনসাধারণের কাছে শেয়ার ছাড়ে বাজারে প্রবেশ করেছিল।