ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জয়ের বিরল সুযোগ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই বড় নয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্যও একটি বিশেষ মাইলফলক — কারণ এটি হবে তাদের ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক।

নতুন এই ভেন্যুটি বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ অজানা, তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও সেটি খুব বেশি পরিচিত নয়। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া এই মাঠে, যার একটিতে জয় ও অন্যটিতে হার ছিল তাদের। এর বাইরে এই মাঠে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই অস্ট্রেলিয়ার। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে এই স্টেডিয়ামটির পরিচিতি এখনো সীমিত।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে, কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেরও খুব বেশি আয়োজন করেনি এই মাঠ। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিল কুইন্সল্যান্ড। এরপর এই মাঠে প্রথম শ্রেণির আরেকটি ম্যাচ দেখতে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরে শেফিল্ড শিল্ডের দুটি ম্যাচ হয়েছে এখানে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের দুটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ভেন্যুতে, যার একটি ছিল গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির ম্যাচ।

সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই মাঠে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়েছিল। সেদিন ডানহাতি পেসার ব্রেন্ডন ডগেটের ১৫ রানে ৬ উইকেটের অসাধারণ বোলিংয়ে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার টেস্টের মাধ্যমে আবারও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ফিরছে ম্যাকাইতে।

মজার বিষয় হলো, এই স্টেডিয়ামে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েছে ম্যাট রেনশের নামের পাশে। ২০১৫ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭০ রান এবং ২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১৩৫ রান করেছিলেন তিনি। প্রথম টেস্টে সুযোগ না পেলেও জ্যাক ওয়েদারাল্ডের বদলে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা পেয়েছেন রেনশ। এখন ম্যাকাইয়ের প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগও মিলছে তাঁর।