ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক শক্তিশালী খল অভিনেতা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন প্রদীপ সিং রাওয়াত। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি হিন্দি, তেলেগু, তামিল ও নেপালি ভাষায় শতাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তবে বিশেষ করে আমির খানের ‘গজনি’ (২০০৮) চলচ্চিত্রে ‘গজনি ধর্মাত্মা’ নামে যে ভয়ংকর খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তা দর্শকের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। মঙ্গলবার রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি। তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিছুদিন আগে ক্যানসার আবার ফিরে আসে। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।

প্রদীপ সিং রাওয়াত ১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্ম নেন। প্রথমে টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন। বি আর চোপড়ার বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। এরপর বড় পর্দায় পা রাখেন। ১৯৮৫ সালে ‘এতবার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তবে নব্বইয়ের দশকে ‘অগ্নিপথ’, ‘কয়লা’, ‘সরফরোশ’, ‘মেজর সাব’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।

সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়ান ২০০১ সালের ‘লাগান’ ছবিতে দেবা সিং সোধি চরিত্রে এবং ২০০৮ সালে ‘গজনি’-তে নির্মম খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এর আগে ২০০৫ সালে সূর্য অভিনীত তামিল ‘গজনি’তেও একই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। তেলেগু ছবি ‘সাই’-এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় যাত্রা শুরু করে সেখানেও সাফল্য পান। ‘সাই’-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ খলনায়ক বিভাগে ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘রাউডি রাঠোর’, ‘বাঘি’সহ আরও অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়।

প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই। অভিনেতা যশপাল শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘“গজনি” ও “লগান” প্রদীপ রাওয়াত, শান্তিতে ঘুমাও।’ তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজের মধ্যে রয়েছে ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাভা’, তেলেগু চলচ্চিত্র ‘গায়াপাড্ডা সিমহাম’ এবং নেপালি ছবি ‘আ বাটা আমা’। অভিনেতা স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, পর্দায় তিনি যতই ভয়ংকর খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করুক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী ও আন্তরিক। তাঁর অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।