জার্মানির বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্স যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে এই মৌসুমে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ভিন্ন উচ্চতায়। ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল করে বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি, দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেনিজ উনদাভের চেয়ে ১৭ গোল বেশি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৬৪, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল করে দলকে তৃতীয় স্থান এনে দিতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন এই স্ট্রাইকার।
তিন বছর আগে টটেনহাম ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর সময় তার মনে ছিল নতুন চ্যালেঞ্জের উত্তেজনা। সেই সময় প্রিমিয়ার লিগে ফিরে অ্যালান শিয়ারারের ২৬০ গোলের রেকর্ড ভাঙার ভাবনাও ছিল। তবে এখন সেই আকাঙ্ক্ষা আর নেই। নিজের কথায়, 'টটেনহাম ছেড়ে প্রথম বের হওয়ার সময় মনে হয়েছিল একদিন ফিরবই। কিন্তু এখন সেই তাগিদ আগের মতো নেই।' মিউনিখের জীবনযাত্রা এবং ক্লাবের পরিবেশ তাকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে যে ইংল্যান্ডের বাইরের ফুটবলকে তিনি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন। 'আমি এখানে খুব সুখে আছি। এই দল, এই কোচ, এই পরিবেশ—সব মিলিয়ে দারুণ। পরিবারও এখানে গুছিয়ে নিয়েছে। এখন আমার লক্ষ্য, যতটা সম্ভব সেরা জায়গায় থাকা,' বলেন কেইন।
বায়ার্নে প্রথম তিন মৌসুমেই বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব জিতেছেন তিনি। ইতিহাসে তার সামনে এখন কেবল গার্ড মুলার ও রবার্ট লেভানডফস্কি, যারা সাতবার করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। এই শতকে টানা চারবার এই পুরস্কার জেতার রেকর্ড রয়েছে কেবল লেভানডফস্কির। কেইন ধীরে ধীরে সেই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে তার কাছে প্রিমিয়ার লিগের ২১৩ গোলের পরিসংখ্যানও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিয়ারারের রেকর্ড ছোঁয়া সম্ভব হলেও এখন তা তার অগ্রাধিকার নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি, তবে জানালাও খোলেননি। 'আমি কখনোই না বলি না। তবে এখন আমি বায়ার্নেই মনোযোগী। ভবিষ্যৎ কী আনবে, দেখা যাবে,' বলেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পথে তিনি দ্বিতীয় দ্রুততম খেলোয়াড় হতে পারেন। রিয়াল মাদ্রিদে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম ১০০ গোল করতে লেগেছিল ৯২ ম্যাচ, আর বুন্দেসলিগায় কেইনের এখন ৯৪ ম্যাচে ৯৮ গোল। সামনে রয়েছে ব্যালন ডি’অর জয়ের বড় সুযোগও। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় এই পুরস্কার জেতেননি। এবারের লড়াইটি অনেক বেশি উন্মুক্ত এবং কেইনের নাম জোরেশোরে আলোচনায়। তবে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয় নিয়ে তিনি বরং বাস্তববাদী। 'এটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। অক্টোবর পর্যন্ত অনেক আলোচনা হবে। কিন্তু আমি যা করার ছিল, করেছি। এটা ছিল আমার সেরা মৌসুম,' বলেন কেইন।




